এই সাইটে প্রতিটি দোয়ার সাথে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া আছে, যাতে যাঁরা এখনো আরবি পড়তে পারেন না তাঁরাও শুরু করতে পারেন। তবে বাংলা উচ্চারণ দিয়ে আরবির শুদ্ধ ধ্বনি পুরোপুরি ধরা যায় না। তাই একে সহায়ক হিসেবে নিন, চূড়ান্ত হিসেবে নয়।
সমস্যাটা কোথায়
আরবির অনেক আলাদা ধ্বনির জন্য বাংলায় একটাই হরফ আছে:
- ث, س, ص তিনটিকেই বাংলায় প্রায়ই “স” লেখা হয়।
- ذ, ز, ظ, ض সবগুলোকেই অনেক সময় “য” বা “জ” লেখা হয়।
- ح আর ه দুটোই “হ”; ع আর ء এর জন্য বাংলায় আলাদা কোনো ধ্বনিই নেই।
- ق আর ك দুটোই “ক”; ط আর ت দুটোই “ত”।
- দীর্ঘ ও হ্রস্ব স্বর (মদ্দ), তাশদীদ, গুন্নাহ: এগুলো বাংলা বানানে ঠিকমতো দেখানো কঠিন।
আমরা চিহ্ন ব্যবহার করে পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা করেছি, যেমন দীর্ঘ স্বরের জন্য “-” (যেমন “আল্লা-হ”), ع-এর জন্য “‘” আর ق-এর জন্য “ক্ব”। তবু এগুলো শুধু ইঙ্গিত।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ
আরবিতে একটি হরফের পরিবর্তনে অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যায়। যেমন: قَلْب (ক্বালব) মানে অন্তর, আর كَلْب (কালব) মানে কুকুর। عَلِيم (‘আলীম) মানে মহাজ্ঞানী, আর أَلِيم (আলীম) মানে যন্ত্রণাদায়ক। কুরআনের আয়াত পড়ার সময় এমন ভুল আরও গুরুতর।
তাহলে কী করবেন
- আরবি পড়া শিখুন। কুরআন পড়তে পারা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরি দক্ষতা। কয়েক সপ্তাহের চেষ্টাতেই আরবি হরফ চেনা যায়।
- শিক্ষকের কাছে শুনে শিখুন। কুরআন ও দোয়া শেখার মূল পদ্ধতি হলো শোনা ও শুনিয়ে শুদ্ধ করা। জিবরাঈল (আ.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে কুরআন শুনিয়েছেন, আর তিনি সাহাবীদের শুনিয়ে শিখিয়েছেন।
- বিশ্বস্ত কারীর তিলাওয়াত শুনুন, বিশেষ করে কুরআনের আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে।
- ছোট দোয়া দিয়ে শুরু করুন। আরবি লেখা দেখে, উচ্চারণ মিলিয়ে, অর্থ জেনে একটি একটি করে মুখস্থ করুন।
যাঁরা কষ্ট করে পড়েন
আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত লেখক-ফেরেশতাদের সাথে থাকবে, আর যে আটকে আটকে কষ্ট করে কুরআন পড়ে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। (বুখারী ৪৯৩৭, মুসলিম ৭৯৮)
তাই উচ্চারণ নিখুঁত না হওয়ার ভয়ে দোয়া ছেড়ে দেবেন না। চেষ্টা চালিয়ে যান, শিখতে থাকুন। আর যতদিন আরবি শব্দে স্বস্তি আসছে না, নিজের ভাষায় অর্থ মনে রেখে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন: আরবিতে না বাংলায়?