দোয়া কবুল করা আল্লাহর অনুগ্রহ। তবে কুরআন ও হাদীসে কিছু বিষয়ের কথা এসেছে, যেগুলো থাকলে দোয়া কবুলের পথ খোলে, আর না থাকলে দোয়া আটকে যেতে পারে।
১. ইখলাস: শুধু আল্লাহর কাছেই চাওয়া
অতএব আল্লাহকে ডাকো তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।
সূরা গাফির ৪০:১৪
দোয়া ইবাদত, তাই তা কেবল আল্লাহর জন্য। কোনো মাযার, পীর, জিন বা কবিরাজের কাছে এমন কিছু চাওয়া, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে না, শিরক। ইবনে আব্বাস (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন: “যখন চাইবে, আল্লাহর কাছে চাইবে; যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছে চাইবে।” (তিরমিযী ২৫১৬; সহীহ)
২. হালাল খাবার ও হালাল উপার্জন
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তির কথা বললেন, যে দীর্ঘ সফরে আছে, চুল এলোমেলো, শরীর ধুলোমাখা, আকাশের দিকে হাত তুলে বলছে “হে রব, হে রব”। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, হারাম দিয়েই সে লালিত। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (মুসলিম ১০১৫)
লোকটির মধ্যে কবুলের অনেক কারণ ছিল: সফর, অসহায় অবস্থা, হাত তোলা, বারবার “হে রব” বলা। তবু হারাম উপার্জন সব আটকে দিয়েছে। তাই দোয়ার আগে উপার্জন পরিষ্কার করা জরুরি।
৩. কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস ও মনোযোগ
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কবুল হবে, এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। আর জেনে রাখো, আল্লাহ উদাসীন ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।” (তিরমিযী ৩৪৭৯; হাসান)
মুখে শব্দ চলছে আর মন অন্য কোথাও, এমন দোয়া নয়। যা বলছেন তার অর্থ বুঝে বলুন। এজন্যই এই সাইটে প্রতিটি দোয়ার অর্থ দেওয়া আছে।
৪. দৃঢ়তার সাথে চাওয়া
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে, সে যেন দৃঢ়ভাবে চায়, আর “হে আল্লাহ, আপনি চাইলে আমাকে দিন” এভাবে না বলে। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই। (বুখারী ৬৩৩৮, মুসলিম ২৬৭৮)
৫. তাড়াহুড়ো না করা
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের দোয়া কবুল করা হয়, যতক্ষণ না কেউ তাড়াহুড়ো করে বলে: আমি দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হলো না।” (বুখারী ৬৩৪০, মুসলিম ২৭৩৫)
মুসলিমের বর্ণনায় আছে, এরপর সে হতাশ হয়ে দোয়া করাই ছেড়ে দেয়। হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেওয়াই আসল ক্ষতি। নবী ইয়াকূব (আ.) বহু বছর পর ইউসুফ (আ.)-কে ফিরে পেয়েছিলেন, আর জাকারিয়া (আ.) বার্ধক্যে সন্তান পেয়েছিলেন।
৬. গুনাহ বা সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া নয়
একই হাদীসে মুসলিমের বর্ণনায় শর্ত আছে: দোয়া কবুল হয়, “যতক্ষণ না সে গুনাহের বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে।” (মুসলিম ২৭৩৫) কারও অন্যায় ক্ষতি চাওয়া, সম্পর্ক ভাঙতে চাওয়া বা হারাম কিছু চাওয়া দোয়ার সীমালঙ্ঘন।
৭. দোয়ার পাশাপাশি চেষ্টা ও আনুগত্য
অতএব তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ পায়।
সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬
আল্লাহ দোয়ার সাড়া দেওয়ার কথা বলার সাথে সাথেই বলেছেন, বান্দাও যেন তাঁর ডাকে সাড়া দেয়। ফরয আদায়, গুনাহ ছাড়ার চেষ্টা আর বৈধ উপায়ে চেষ্টা করা: এগুলো দোয়াকে শক্তিশালী করে।
কোন কোন বিষয় দোয়া আটকে দেয়, তা নিয়ে আলাদা লেখা: কবুলের পথে বাধা।