duabd

লেখা

কবুলের পথে বাধা

হারাম উপার্জন, উদাসীন মন, হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ছেড়ে দেওয়া আর দোয়ায় সীমালঙ্ঘন: যেসব কারণে দোয়া আটকে যায়।

কখনো মনে হয়, এত দোয়া করছি, তবু কিছু হচ্ছে না। প্রথমে মনে রাখুন: মুমিনের কোনো দোয়া বৃথা যায় না। আল্লাহ হয় তা পূরণ করেন, নয়তো আখিরাতে জমা রাখেন, নয়তো কোনো বিপদ সরিয়ে দেন (দোয়ার ফযীলত লেখায় হাদীসটি আছে)। তবু নিজেকে যাচাই করা দরকার, কোনো বাধা আছে কি না।

১. হারাম উপার্জন

হারাম খাবার, হারাম পোশাক আর হারাম উপার্জনে লালিত মানুষের দোয়া নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রশ্ন রেখেছেন: “তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?” (মুসলিম ১০১৫) সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, ওজনে কম দেওয়া, অন্যের হক মেরে খাওয়া: এগুলো দোয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

২. উদাসীন মন

“আল্লাহ উদাসীন ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।” (তিরমিযী ৩৪৭৯; হাসান) মুখস্থ শব্দ যান্ত্রিকভাবে আওড়ানো আর অন্তর দিয়ে চাওয়া এক নয়।

৩. তাড়াহুড়ো ও হতাশা

“আমি দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হলো না” বলে দোয়া ছেড়ে দেওয়া কবুলের পথ বন্ধ করে। (বুখারী ৬৩৪০, মুসলিম ২৭৩৫) দেরি হওয়া মানে প্রত্যাখ্যান নয়।

৪. গুনাহের বা সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া

অন্যের অন্যায় ক্ষতি, কারও সংসার ভাঙা, হারাম কিছু পাওয়ার দোয়া কবুল হয় না। (মুসলিম ২৭৩৫) রাগের মাথায় নিজের, নিজের সন্তান বা সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতেও রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন, কারণ তা কবুলের মুহূর্তে পড়ে যেতে পারে। (মুসলিম ৩০০৯)

৫. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ ছেড়ে দেওয়া

হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; নইলে আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাঠাবেন, তখন তোমরা তাঁকে ডাকবে, কিন্তু তোমাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হবে না। (তিরমিযী ২১৬৯; হাসান)

৬. দোয়ায় সীমালঙ্ঘন

তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনয়ের সাথে ও চুপিসারে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৫৫

সীমালঙ্ঘনের উদাহরণ:

  • অসম্ভব বা শরীআতবিরোধী কিছু চাওয়া, যেমন নবী হওয়ার দোয়া।
  • অপ্রয়োজনে চিৎকার করে দোয়া করা।
  • ছন্দ মেলাতে গিয়ে কৃত্রিম, অতিরঞ্জিত শব্দ বানানো।
  • অতিরিক্ত খুঁটিনাটি বর্ণনা।

সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.)-এর ছেলে দোয়ায় জান্নাতের নিয়ামত ও সৌন্দর্য এবং জাহান্নামের শিকল-বেড়ি থেকে আশ্রয়, এভাবে খুঁটিনাটি তালিকা করে চাইছিলেন। সা‘দ (রা.) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এমন লোক আসবে যারা দোয়ায় সীমালঙ্ঘন করবে। তুমি জান্নাত চাইলে জান্নাত ও তার সব কল্যাণ পাবে, আর জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাইলে তার সব অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাবে। (আবু দাউদ ১৪৮০; সহীহ)

৭. গুনাহে ডুবে থাকা

গুনাহ অন্তরকে কঠিন করে আর আল্লাহর থেকে দূরে সরায়। এর প্রতিকার তওবা ও ইস্তিগফার। দোয়ার আগে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ভালো অভ্যাস। দেখুন: সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার।

তাহলে কী করবেন?

  1. উপার্জন হালাল করুন, অন্যের হক থাকলে ফিরিয়ে দিন।
  2. তওবা করুন, তারপর অর্থ বুঝে মন দিয়ে দোয়া করুন।
  3. কবুলের সময়গুলো কাজে লাগান: দোয়া কবুলের সময় ও স্থান।
  4. লেগে থাকুন। ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন।

আরও পড়ুন

দোয়ার ফযীলতকুরআন ও সহীহ হাদীসে দোয়ার মর্যাদা: কেন দোয়া নিজেই ইবাদত, আর কোনো দোয়া কেন বৃথা যায় না।লেখাদোয়া কবুলের সময় ও স্থানরাতের শেষ ভাগ, আযান ও ইকামতের মাঝে, সিজদা, জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্তসহ যেসব সময়ের কথা সহীহ হাদীসে এসেছে।লেখাদোয়া কবুলের শর্তইখলাস, হালাল উপার্জন, দৃঢ় বিশ্বাস, মনোযোগ আর তাড়াহুড়ো না করা: দোয়া কবুলের জন্য যেগুলো জরুরি।লেখাযাদের দোয়া কবুল হয়মজলুম, মুসাফির, সন্তানের জন্য বাবা-মা, রোযাদার আর অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী: সহীহ হাদীসে যাদের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা এসেছে।লেখাদোয়ার আদবআল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ দিয়ে শুরু, হাত তোলা, বিনয় ও চুপিসারে চাওয়া, তিনবার চাওয়া, নিজের জন্য আগে: সুন্নাহসম্মত দোয়ার আদব।লেখামুনাজাত: কখন ও কীভাবেদোয়ায় হাত তোলার সুন্নাহ, রাসূলুল্লাহ ﷺ কখন হাত তুলেছেন, আর ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাত নিয়ে আলিমদের বক্তব্য।লেখাআরবিতে না বাংলায়?নিজের ভাষায় দোয়া করা যায় কি না, নামাযের ভেতরে ও বাইরে বিধান কী, আর মাসনূন আরবি দোয়ার বিশেষ মর্যাদা।লেখাবাংলা উচ্চারণ নিয়ে সতর্কতাবাংলা হরফে আরবির সব ধ্বনি লেখা যায় না। কেন উচ্চারণ শুধু সহায়ক, আর কীভাবে শুদ্ধভাবে শিখবেন।লেখা