duabd

লেখা

যাদের দোয়া কবুল হয়

মজলুম, মুসাফির, সন্তানের জন্য বাবা-মা, রোযাদার আর অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী: সহীহ হাদীসে যাদের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা এসেছে।

সব মুমিনের দোয়াই আল্লাহ শোনেন। তবে কিছু মানুষের দোয়ার কথা হাদীসে আলাদা করে বলা হয়েছে। এগুলো জানলে দুটো লাভ: নিজে সেই অবস্থায় থাকলে বেশি দোয়া করা, আর অন্যের দোয়া (বিশেষ করে মজলুমের বদদোয়া) সম্পর্কে সাবধান থাকা।

১. মজলুম (অত্যাচারিত)

রাসূলুল্লাহ ﷺ মুআয (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: “মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।” (বুখারী ১৪৯৬, মুসলিম ১৯)

তাই কারও ওপর জুলুম করবেন না: কর্মচারী, গৃহকর্মী, স্ত্রী, প্রতিবেশী, কারও ওপরই না। আর আপনি জুলুমের শিকার হলে ধৈর্যের সাথে আল্লাহর কাছেই বিচার চান।

২. মুসাফির ও সন্তানের জন্য বাবা-মা

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তিনটি দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়: মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের ব্যাপারে পিতার দোয়া (পক্ষে হোক বা বিপক্ষে)। (আবু দাউদ ১৫৩৬, তিরমিযী ১৯০৫; হাসান)

সফরে থাকলে সময়টা দোয়ায় কাজে লাগান। দেখুন: সফরের দোয়া। আর বাবা-মা সন্তানের জন্য কল্যাণের দোয়া করুন। রাগের মাথায় সন্তানের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবেন না।

৩. রোযাদার

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোযাদার যতক্ষণ না ইফতার করে, এবং মজলুম। (ইবনে মাজাহ ১৭৫২; তিরমিযী ৩৫৯৮) এই হাদীসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মতভেদ আছে। তবে রোযাদারের দোয়ার মর্যাদার কথা অন্য বর্ণনাতেও এসেছে, তাই আলিমগণ রোযার দিনে, বিশেষ করে ইফতারের আগে দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। দেখুন: ইফতারের দোয়া।

৪. অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী

আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোনো মুসলিম যখন তার ভাইয়ের অগোচরে তার জন্য দোয়া করে, তা কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন; যখনই সে ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে, ফেরেশতা বলেন: আমীন, আর তোমার জন্যও অনুরূপ। (মুসলিম ২৭৩৩)

নিজের যা প্রয়োজন, অন্য কারও জন্য তা চেয়ে দোয়া করুন। ফেরেশতার দোয়ায় আপনিও তা পাবেন, ইন শা আল্লাহ।

৫. বিপদগ্রস্ত ও নিরুপায়

বরং তিনি, যিনি নিরুপায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে, এবং কষ্ট দূর করেন।

সূরা আন-নামল ২৭:৬২

যখন সব রাস্তা বন্ধ মনে হয়, তখন দোয়ার দরজা খোলা। ইউনুস (আ.) মাছের পেটে থেকে যে দোয়া করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে সেই দোয়া করলে আল্লাহ সাড়া দেন। (তিরমিযী ৩৫০৫; সহীহ) দেখুন: দোয়া ইউনুস।

৬. বেশি বেশি যিকিরকারী ও নেককার বান্দা

যারা সুখের সময়ে আল্লাহকে মনে রাখে, বিপদের সময় আল্লাহ তাদের মনে রাখেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে চেনো, তাহলে কঠিন সময়ে তিনি তোমাকে চিনবেন।” (মুসনাদ আহমাদ ২৮০৩; সহীহ)

নোট

কোনো মানুষের দোয়া কবুল হবেই, এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। পীর বা “কামেল” কারও কাছে টাকা দিয়ে দোয়া কেনা, বা কারও দোয়াকে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষমতাবান ভাবা ঠিক নয়। নেককার জীবিত মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া জায়েয, কিন্তু সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো নিজেই আল্লাহর কাছে চাওয়া।

আরও পড়ুন

দোয়ার ফযীলতকুরআন ও সহীহ হাদীসে দোয়ার মর্যাদা: কেন দোয়া নিজেই ইবাদত, আর কোনো দোয়া কেন বৃথা যায় না।লেখাদোয়া কবুলের সময় ও স্থানরাতের শেষ ভাগ, আযান ও ইকামতের মাঝে, সিজদা, জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্তসহ যেসব সময়ের কথা সহীহ হাদীসে এসেছে।লেখাদোয়া কবুলের শর্তইখলাস, হালাল উপার্জন, দৃঢ় বিশ্বাস, মনোযোগ আর তাড়াহুড়ো না করা: দোয়া কবুলের জন্য যেগুলো জরুরি।লেখাকবুলের পথে বাধাহারাম উপার্জন, উদাসীন মন, হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ছেড়ে দেওয়া আর দোয়ায় সীমালঙ্ঘন: যেসব কারণে দোয়া আটকে যায়।লেখাদোয়ার আদবআল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ দিয়ে শুরু, হাত তোলা, বিনয় ও চুপিসারে চাওয়া, তিনবার চাওয়া, নিজের জন্য আগে: সুন্নাহসম্মত দোয়ার আদব।লেখামুনাজাত: কখন ও কীভাবেদোয়ায় হাত তোলার সুন্নাহ, রাসূলুল্লাহ ﷺ কখন হাত তুলেছেন, আর ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাত নিয়ে আলিমদের বক্তব্য।লেখাআরবিতে না বাংলায়?নিজের ভাষায় দোয়া করা যায় কি না, নামাযের ভেতরে ও বাইরে বিধান কী, আর মাসনূন আরবি দোয়ার বিশেষ মর্যাদা।লেখাবাংলা উচ্চারণ নিয়ে সতর্কতাবাংলা হরফে আরবির সব ধ্বনি লেখা যায় না। কেন উচ্চারণ শুধু সহায়ক, আর কীভাবে শুদ্ধভাবে শিখবেন।লেখা