আল্লাহ সব সময় শোনেন, যেকোনো সময় দোয়া করা যায়। তবে কিছু সময় ও অবস্থার কথা হাদীসে বিশেষভাবে এসেছে, যখন দোয়া কবুলের আশা বেশি। এগুলো জানা থাকলে দিনের ভেতরেই অনেক সুযোগ কাজে লাগানো যায়।
১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশ
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আছে আমাকে ডাকবে, আমি সাড়া দেব? কে আছে আমার কাছে চাইবে, আমি দেব? কে আছে ক্ষমা চাইবে, আমি ক্ষমা করব? (বুখারী ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮)
ফজরের আধা ঘণ্টা আগে উঠে দুই রাকাআত পড়ে দোয়া করাও এই সময়ের মধ্যে পড়ে। তাহাজ্জুদের শুরুর দোয়াগুলো দেখুন: আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা নূরুস সামাওয়াত।
২. ফরয নামাযের শেষে
আবু উমামা (রা.) বলেন, জিজ্ঞেস করা হলো: কোন দোয়া বেশি শোনা হয়? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: “রাতের শেষ ভাগে এবং ফরয নামাযগুলোর শেষে।” (তিরমিযী ৩৪৯৯; হাসান)
“নামাযের শেষে” বলতে অনেক আলিম সালামের আগে তাশাহহুদ ও দরূদের পরের সময়কে বুঝিয়েছেন, আর অনেকে সালামের পরের যিকিরের পরের সময়কেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দুই সময়েই দোয়া করা যায়।
৩. আযান ও ইকামতের মাঝে
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আযান ও ইকামতের মাঝের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” (আবু দাউদ ৫২১, তিরমিযী ২১২; সহীহ)
আযান শেষ হলে আযানের পরের দোয়া পড়ে তারপর নিজের প্রয়োজনের কথা চাইতে পারেন।
৪. সিজদায়
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে থাকে সিজদা অবস্থায়। তাই তোমরা (সিজদায়) বেশি বেশি দোয়া করো।” (মুসলিম ৪৮২)
ফরয নামাযের সিজদায় মাসনূন আরবি দোয়া পড়া উত্তম। নফল নামাযের সিজদায় দীর্ঘ সময় নিয়ে দোয়া করা যায়। নিজের ভাষায় দোয়ার বিধান জানতে পড়ুন: আরবিতে না বাংলায়?
৫. জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্ত
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ জুমআর দিনের কথা বলে বললেন: এতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময় নামাযে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন। আর তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বোঝালেন যে মুহূর্তটি খুব ছোট। (বুখারী ৯৩৫, মুসলিম ৮৫২)
মুহূর্তটি কখন, তা নিয়ে দুটি মত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ:
- ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত। আবু মূসা আশআরী (রা.)-এর বর্ণনা। (মুসলিম ৮৫৩)
- আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ সময়টুকু। জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে: “আসরের পরের শেষ মুহূর্তে তা খোঁজো।” (আবু দাউদ ১০৪৮; সহীহ)
অনেক আলিম পরামর্শ দেন, দুই সময়েই দোয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে মাগরিবের আগের সময়টা দোয়া ও যিকিরে কাটানো।
৬. আরাফার দিন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।” (তিরমিযী ৩৫৮৫; হাসান) হাজীরা আরাফার ময়দানে, আর যারা হজে নেই তারা রোযা রেখে দিনভর দোয়া করতে পারেন। দেখুন: আরাফার দিনের সর্বোত্তম দোয়া।
৭. লাইলাতুল কদর ও রমযানের রাত
আয়িশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, কদরের রাত পেলে কী বলব? রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে একটি দোয়া শিখিয়ে দেন। (তিরমিযী ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০) দোয়াটি দেখুন: লাইলাতুল কদরের দোয়া।
৮. বৃষ্টির সময় ও যুদ্ধের কাতারে
সাহল ইবনে সা‘দ (রা.) থেকে বর্ণিত, দুই সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (বা খুব কমই ফেরানো হয়): আযানের সময় এবং যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে। (আবু দাউদ ২৫৪০; সহীহ) একই হাদীসের আরেকটি সূত্রে “বৃষ্টির সময়”-এর কথাও এসেছে।
৯. বিশেষ অবস্থার মানুষের দোয়া
কিছু মানুষের দোয়ার কথা হাদীসে আলাদাভাবে এসেছে: মজলুম, মুসাফির, সন্তানের জন্য বাবা-মা, রোযাদার, আর অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী। বিস্তারিত পড়ুন: যাদের দোয়া কবুল হয়।
মনে রাখুন
এই সময়গুলো সুযোগ, শর্ত নয়। যে সময়েই অন্তর থেকে চান, আল্লাহ শোনেন। সময়ের পাশাপাশি দোয়ার আদব ও কবুলের শর্তগুলোও খেয়াল রাখুন: দোয়া কবুলের শর্ত।