অনেকে ভাবেন, আরবি না জানলে দোয়া হবে না। আবার অনেকে নামাযের সিজদায়ও বাংলায় দোয়া করেন। আসল বিধানটা কী?
আল্লাহ সব ভাষা বোঝেন
আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য।
সূরা আর-রূম ৩০:২২
ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহরই সৃষ্টি। তিনি অন্তরের কথাও জানেন, যা মুখে আসেনি। তাই নামাযের বাইরে নিজের ভাষায় দোয়া করা সম্পূর্ণ জায়েয। এ বিষয়ে আলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতভেদ নেই।
নামাযের বাইরে
- যেকোনো প্রয়োজনের কথা বাংলায়, নিজের মতো করে আল্লাহকে বলুন।
- যেখানে মাসনূন আরবি দোয়া জানা আছে (যেমন ঘুম, খাওয়া, সফর), সেখানে আরবি দোয়াটি পড়া উত্তম, কারণ এর শব্দও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো এবং তাতে সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াব আছে।
- আরবি দোয়ার সাথে তার অর্থ মনে রাখলে দুটোরই উপকার পাওয়া যায়: সুন্নাহর শব্দ আর অন্তরের উপস্থিতি।
নামাযের ভেতরে
নামাযের ভেতরের দোয়া (রুকু, সিজদা, তাশাহহুদের পর) নিয়ে ফকীহদের মতভেদ আছে:
- হানাফী মাযহাবে নামাযে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় দোয়া করা মাকরূহ। তাই নামাযে কুরআন-হাদীসের শব্দে, আরবিতে দোয়া করা উচিত।
- অন্য অনেক ফকীহ বলেন, আরবি না জানলে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত নিজের ভাষায় দোয়া করতে পারে, তবে আরবি শেখার চেষ্টা করবে।
সবচেয়ে নিরাপদ পথ: নামাযের ভেতরে মাসনূন আরবি দোয়া পড়ুন। কিছু ছোট দোয়া মুখস্থ করে নিন, যেমন রব্বানা আতিনা আর নামাযের দোয়া ভাগের ছোট দোয়াগুলো। নিজের ভাষার বিস্তারিত দোয়া নামাযের পরে বা নফল নামায শেষে করুন।
নফল নামাযে
অনেক আলিম নফল নামাযে, বিশেষ করে তাহাজ্জুদে, সিজদায় দীর্ঘ দোয়া করার পরামর্শ দেন। যারা নিজের ভাষায় করতে চান, তাদের জন্যও নামাযের পরে নিজের ভাষায় দোয়া করাই মতভেদমুক্ত পথ।
আরবি দোয়ার অর্থ জেনে নিন
অর্থ না বুঝে আরবি দোয়া পড়লেও সওয়াব আছে, কিন্তু অর্থ জানলে অন্তর উপস্থিত থাকে, আর মনোযোগ দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত। (তিরমিযী ৩৪৭৯) এই সাইটের প্রতিটি দোয়ার সাথে বাংলা অর্থ দেওয়া আছে, যাতে আরবি পড়তে পড়তে অর্থও মনে আসে।
আরবি উচ্চারণ নিয়ে কিছু সতর্কতা আছে: বাংলা উচ্চারণ নিয়ে সতর্কতা।