duabd

লেখা

দোয়ার ফযীলত

কুরআন ও সহীহ হাদীসে দোয়ার মর্যাদা: কেন দোয়া নিজেই ইবাদত, আর কোনো দোয়া কেন বৃথা যায় না।

দোয়া মানে আল্লাহর কাছে চাওয়া। বান্দা যখন হাত তুলে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে আর রবের কাছে চায়, তখন সে আসলে ঘোষণা করে: সব ক্ষমতা আল্লাহর, আমি তাঁর মুখাপেক্ষী। এজন্যই দোয়া শুধু প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম নয়, দোয়া নিজেই একটি বড় ইবাদত।

আল্লাহ নিজেই ডাকতে বলেছেন

তোমাদের রব বলেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকার করে আমার ইবাদত থেকে বিমুখ হয়, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

সূরা গাফির ৪০:৬০

এই আয়াতে আল্লাহ দোয়াকে “ইবাদত” বলেছেন, আর দোয়া না করাকে অহংকারের সাথে যুক্ত করেছেন। আরেক আয়াতে তিনি বলেন:

আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (বলুন) আমি তো কাছেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।

সূরা আল-বাকারা ২:১৮৬

দোয়াই ইবাদত

নু‘মান ইবনে বাশীর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দোয়াই হলো ইবাদত।” এরপর তিনি সূরা গাফিরের ওপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। (আবু দাউদ ১৪৭৯, তিরমিযী ২৯৬৯; সহীহ)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে সম্মানিত কিছু নেই।” (তিরমিযী ৩৩৭০; হাসান)

তিনি আরও বলেছেন: “যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন।” (তিরমিযী ৩৩৭৩; হাসান) মানুষ চাইলে বিরক্ত হয়, আর আল্লাহ না চাইলে অসন্তুষ্ট হন। এটাই রবের দয়া।

কোনো দোয়া বৃথা যায় না

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোনো মুসলিম যখন এমন দোয়া করে যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কিছু নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি অবশ্যই দেন:

  1. হয় তার চাওয়া দুনিয়াতেই দ্রুত পূরণ করেন,
  2. অথবা তা আখিরাতের জন্য জমা রেখে দেন,
  3. অথবা এর সমপরিমাণ কোনো বিপদ তার থেকে সরিয়ে দেন।

সাহাবীরা বললেন, তাহলে আমরা বেশি বেশি দোয়া করব। তিনি বললেন: “আল্লাহর দান আরও বেশি।” (মুসনাদ আহমাদ ১১১৩৩; সহীহ)

তাই দোয়ার ফল চোখে না দেখলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হয়তো সেই দোয়ার বিনিময়ে কোনো বিপদ এসে ফিরে গেছে, অথবা কিয়ামতের দিনের জন্য তা জমা আছে।

আল্লাহ খালি হাতে ফেরান না

সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দানশীল। বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।” (আবু দাউদ ১৪৮৮, তিরমিযী ৩৫৫৬; সহীহ)

দোয়া তাকদীরের সাথেও কাজ করে

সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দোয়া ছাড়া আর কিছু তাকদীর ফেরাতে পারে না।” (তিরমিযী ২১৩৯; হাসান) আলিমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, দোয়াও আল্লাহর নির্ধারিত ব্যবস্থার অংশ: তিনি কোনো কল্যাণ বান্দার দোয়ার মাধ্যমেই দেওয়া নির্ধারণ করে রাখেন। তাই “যা হবার তা তো হবেই” বলে দোয়া ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

নিজের জন্য যা করতে পারেন

আরও পড়ুন

দোয়া কবুলের সময় ও স্থানরাতের শেষ ভাগ, আযান ও ইকামতের মাঝে, সিজদা, জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্তসহ যেসব সময়ের কথা সহীহ হাদীসে এসেছে।লেখাদোয়া কবুলের শর্তইখলাস, হালাল উপার্জন, দৃঢ় বিশ্বাস, মনোযোগ আর তাড়াহুড়ো না করা: দোয়া কবুলের জন্য যেগুলো জরুরি।লেখাকবুলের পথে বাধাহারাম উপার্জন, উদাসীন মন, হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ছেড়ে দেওয়া আর দোয়ায় সীমালঙ্ঘন: যেসব কারণে দোয়া আটকে যায়।লেখাযাদের দোয়া কবুল হয়মজলুম, মুসাফির, সন্তানের জন্য বাবা-মা, রোযাদার আর অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী: সহীহ হাদীসে যাদের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা এসেছে।লেখাদোয়ার আদবআল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ দিয়ে শুরু, হাত তোলা, বিনয় ও চুপিসারে চাওয়া, তিনবার চাওয়া, নিজের জন্য আগে: সুন্নাহসম্মত দোয়ার আদব।লেখামুনাজাত: কখন ও কীভাবেদোয়ায় হাত তোলার সুন্নাহ, রাসূলুল্লাহ ﷺ কখন হাত তুলেছেন, আর ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাত নিয়ে আলিমদের বক্তব্য।লেখাআরবিতে না বাংলায়?নিজের ভাষায় দোয়া করা যায় কি না, নামাযের ভেতরে ও বাইরে বিধান কী, আর মাসনূন আরবি দোয়ার বিশেষ মর্যাদা।লেখাবাংলা উচ্চারণ নিয়ে সতর্কতাবাংলা হরফে আরবির সব ধ্বনি লেখা যায় না। কেন উচ্চারণ শুধু সহায়ক, আর কীভাবে শুদ্ধভাবে শিখবেন।লেখা