সমস্যায় পড়লে অনেকে প্রথমেই খোঁজেন “ভালো হুজুর” বা “বড় কবিরাজ”। আবার অনেকে ভয়ে রুকইয়াহই করেন না, কারণ শুনেছেন রুকইয়াহ করালে নাকি বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার মর্যাদা হারাতে হয়। দুটো ধারণাই ভুল বোঝাবুঝি থেকে আসে। এই লেখায় জানবেন কখন নিজে রুকইয়াহ করবেন, কখন অন্যের সাহায্য নেবেন, একজন ভালো রাক্বী কেমন হন, আর কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন সামনের লোকটি আসলে জাদুকর।
আগে নিজে, প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য
নিজের বা পরিবারের জন্য রুকইয়াহ করতে বিশেষ কোনো যোগ্যতা, ইজাযত বা বিরাট আমলদার হওয়ার দরকার নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে নিজের ও পরিবারের জন্য রুকইয়াহ করতেন এবং সাহাবীদেরও করতে বলতেন। তাই এই ক্রম মেনে চলুন:
- নির্ভরযোগ্য নিয়ম দেখে প্রথমে নিজেই রুকইয়াহ করুন। শুরু করতে পারেন সুন্নাহসম্মত রুকইয়াহর ১০টি পদ্ধতি থেকে।
- প্রয়োজনে আপনার চেয়ে বেশি জানেন এমন কারো পরামর্শ নিন।
- তাতেও কাজ না হলে অভিজ্ঞ, সুন্নাহ মেনে চলা কোনো রাক্বীকে দিয়ে রুকইয়াহ করান।
সত্তর হাজারের হাদীস: একটি ভুল বোঝাবুঝি
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানিয়েছেন, তাঁর উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তারা অন্যের কাছে রুকইয়াহ চায় না, শুভ-অশুভ লক্ষণ মানে না, দাগ দিয়ে চিকিৎসা করায় না, এবং শুধু তাদের রবের ওপর ভরসা করে। (বুখারী ৫৭০৫, মুসলিম ২২০)
অনুবাদ পড়ে অনেকে ভাবেন, রুকইয়াহ করলেই জান্নাতের পথে বাধা। তিনটি কথা মনে রাখলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়:
- শব্দের অর্থ: হাদীসের “লা ইয়াসতারকূন” মানে “যারা রুকইয়াহ করে না” নয়; মানে “যারা অন্যের কাছে রুকইয়াহ করে দেওয়ার আবেদন করে না”। আরবিতে এই গঠন চাওয়া বোঝায়, যেমন ইস্তিগফার মানে ক্ষমা চাওয়া। শাইখ ইবনু বায (রহ.)-ও এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
- এটা উচ্চতর মর্যাদার কথা: হাদীসটি বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার বিশেষ মর্যাদা নিয়ে, জান্নাতে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে নয়। এখানে উচ্চতর স্তরের (আযীমত) কথা বলা হয়েছে, যা আবশ্যক নয়। প্রয়োজনে অন্যের কাছে রুকইয়াহ করানোর অনুমতি আছে; তখন তিনি সাধারণ মুমিনদের মধ্যে গণ্য হবেন, আর সত্তর হাজারের বাইরেও অগণিত মানুষ জান্নাতে যাবেন। বিনা হিসাবে জান্নাতের অন্য পথও আছে, যেমন শাহাদাত।
- নিজে করা বা অন্যের জন্য করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়: নিজের ওপর রুকইয়াহ করলে বা অন্যের ওপর রুকইয়াহ করে দিলে এই মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে হয় না। কেউ শুধু পরামর্শ চাইতে গেলেন আর পরামর্শদাতা নিজে থেকেই রুকইয়াহ করে দিলেন, তাতেও সমস্যা নেই; ইয়া‘লা ইবনু মুররা ও উসমান ইবনু আবিল আস (রা.)-এর হাদীসে এমন উদাহরণ আছে।
তিনটি আলাদা বিষয়
- রুকইয়াহ করা (নিজের বা অন্যের জন্য): জিবরীল (আ.), নবীগণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ, সাহাবী ও সালাফ সবাই করেছেন। শরীয়তের সীমায় থেকে করলে কোনো আপত্তি নেই।
- রুকইয়াহ করানো: নিজে পারলে কোনো ওজর ছাড়া অন্যের কাছে চাওয়া উচিত নয়। কিন্তু নিজে করতে গেলে খুব কষ্ট হলে বা পদ্ধতি বুঝতে না পারলে অন্যকে দিয়ে করানো জায়িয; আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না (আল-বাকারা ২:২৮৬)। আর জিনের কারণে কেউ নামায বা তিলাওয়াতই করতে না পারলে, কিংবা জাদুতে এতটা দুর্বল হলে যে নামায-রোযা আদায় হচ্ছে না, তখন অন্যকে দিয়ে রুকইয়াহ করানো ওয়াজিব, কারণ ইবাদতের পথের বাধা সাধ্যমতো দূর করা জরুরি। প্রকৃত প্রয়োজনে করালে ইন শা আল্লাহ মর্যাদা হারাতে হবে না।
- রুকইয়াহ করতে বাধা দেওয়া: এটা অন্যায় ও গুনাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে রুকইয়াহ করেছেন, অন্যদের করতে বলেছেন, আর তাঁর শেষ অসুস্থতায় আয়িশা (রা.) তাঁর ওপর রুকইয়াহ করলে তিনি বাধা দেননি। (বুখারী ৪৪৩৯) কেউ আপনার জন্য রুকইয়াহ করতে চাইলে বাধা দেবেন না।
যিনি রুকইয়াহ করবেন: তিনটি জরুরি বিষয়
নিজের জন্য হোক বা অন্যের জন্য, সফল রুকইয়ার জন্য তিনটি জিনিস লাগে:
- নিয়ত: কোন সমস্যার জন্য পড়ছেন, তা স্পষ্ট করে নিয়ত করুন, যেমন “বদনজরের জন্য” বা “পারিবারিক অশান্তির কারণ দূর হওয়ার জন্য”। “সব সমস্যার জন্য” এমন সাধারণ নিয়তও করা যায়, তবে নির্দিষ্ট নিয়তে উপকার কয়েক গুণ বেশি হয়।
- ইয়াকীন: কুরআনে শিফা আছে, এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন।
- সবর ও লেগে থাকা: একটু ভালো লাগলেই বন্ধ করা, কয়েকদিন পর আবার শুরু করা, এক বেলা করে আরেক বেলা বাদ দেওয়া চলবে না। পুরোনো সমস্যা হলে অন্তত কয়েক মাস ভালোভাবে চিকিৎসা চালিয়ে তারপর হালকা একটা নিয়মিত রুটিনে আসুন।
সেলফ রুকইয়ার দিনগুলোতে পরিবারের কেউ উৎসাহ দিলে ও যত্ন নিলে অনেক সহজ হয়। আর আকীদা বিশুদ্ধ থাকা জরুরি; সব নিয়ম মেনেও উপকার না পেলে অনেক সময় কারণ হয় আল্লাহর সাহায্যের ব্যাপারে বিশ্বাসে দুর্বলতা।
কেন অন্যের জন্যও রুকইয়াহ শিখবেন
সমাজে জিন, জাদু ও বদনজরের সমস্যা যত ব্যাপক, শরঈ সমাধান জানা মানুষ তত কম। ফলে মানুষ কবিরাজের কাছে গিয়ে টাকা, সময়, স্বাস্থ্য, এমনকি ঈমানও হারায়। সব ছেড়ে রুকইয়াহতে লেগে যেতে হবে না; নিজের কাজের পাশাপাশি মাঝে মাঝে সময় দিন, আর কেউ বিপদে পড়লে তাকে সঠিক পথ দেখান। এর কিছু উপকার:
- দাওয়াতের সুযোগ: অনেক রোগী দ্বীন থেকে দূরে, কেউ কবিরাজের কাছে গিয়ে শিরকে জড়িয়েছেন। তাদের কাছে তাওহীদের কথা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। একজন মানুষও আপনার মাধ্যমে হিদায়াত পেলে তা লাল উটের চেয়ে উত্তম। (বুখারী ৩৭০১, মুসলিম ২৪০৬)
- কুরআনের সাথে সম্পর্ক: প্রতিদিন দীর্ঘ তিলাওয়াত হয়, প্রতি হরফে সওয়াব মেলে, আর কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। (মুসলিম ৮০৪)
- ভাইয়ের উপকার: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে পারলে যেন করে। (মুসলিম ২১৯৯) আর যে মুমিনের একটি বিপদ দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন। (মুসলিম ২৬৯৯)
- শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম: ইবনু তাইমিয়া (রহ.) মুখলিস রাক্বীর কাজকে আল্লাহর পথে সংগ্রামের একটি উত্তম রূপ বলেছেন। তাই রাক্বীর উচিত গুনাহ থেকে দূরে থাকা, যাতে শয়তান সুযোগ না পায়।
- তাওয়াক্কুল: অদৃশ্য শক্তির মোকাবিলায় শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে লড়তে গিয়ে রাক্বীর তাওয়াক্কুল পূর্ণতা পায়।
“চারদিকে কবিরাজি, আমি একা কী করব?” এমন মনে হলে স্মরণ করুন: মন্দের প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত হলেও ভালো আর মন্দ সমান নয় (আল-মায়িদা ৫:১০০), আর আল্লাহর হুকুমে বহু ছোট দল বড় দলকে হারিয়েছে (আল-বাকারা ২:২৪৯)।
একজন ভালো রাক্বীর বৈশিষ্ট্য
যিনি নিয়মিত মানুষের রুকইয়াহ করেন, তাঁর মধ্যে যা থাকা উচিত (রাক্বী খোঁজার সময়ও এগুলো মিলিয়ে নিন):
- বিশুদ্ধ আকীদা: শিরক-বিদআতমুক্ত, আল্লাহর ওপর নিখাদ ভরসা।
- বিনয়: বিশ্বাস রাখেন, সুস্থ করার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর, তাঁর নিজের নয়। রোগী সুস্থ হলে অহংকার না করে শুকরিয়া আদায় করেন।
- শরীয়তের পাবন্দি: নামায-রোযা, হালাল-হারাম এবং মাহরাম-গাইর মাহরামের বিধানে যত্নবান।
- মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মিক শক্তি: নিয়মিত যিকির, নফল রোযা ও তাহাজ্জুদের অভ্যাস।
- জ্ঞান: জিন, জাদু, বদনজর ও ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি ভালোভাবে জানেন। জিনরা প্রচুর মিথ্যা বলে, তাই তাদের কথায় ভরসা করেন না।
- শুদ্ধ তিলাওয়াত: অশুদ্ধ তিলাওয়াতে উল্টো গুনাহ হয়।
- নিজের মাসনূন আমলে যত্ন: সকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের আগে, ঘর থেকে বের হওয়া ও টয়লেটে ঢোকার দোয়া নিয়মিত পড়েন, পরিবারকেও অভ্যস্ত করেন, আর রুকইয়ার ব্যস্ততায় পরিবারের হক নষ্ট করেন না।
- ঘর পবিত্র রাখা: প্রাণীর ছবি, মূর্তি, গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র থেকে ঘর মুক্ত রাখেন।
- রোগীর দ্বীনের প্রতি খেয়াল: শুধু শরীর নয়, রোগীর ঈমান-আমলের উন্নতির দিকেও নজর দেন, যাতে দুনিয়ায় পুরো সুস্থ না হলেও কেউ আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
- নারীঘটিত ফিতনা থেকে সতর্কতা: জিন-জাদুর রোগীদের বড় অংশ নারী, তাই আল্লাহকে ভয় করেন। এ ব্যাপারে নিজেকে দুর্বল মনে হলে ঢালাওভাবে মানুষের রুকইয়াহ করেন না।
- পেশাগত শিষ্টাচার: আন্তরিক, রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করেন, রুকইয়ার ভিডিও যেখানে-সেখানে প্রচার করেন না, এবং রোগীর নাম ধরে তার জন্য দোয়া করেন।
- বাস্তবসম্মত পরামর্শ: প্রেসক্রিপশন দেন রোগীর সময়, সামর্থ্য ও শারীরিক অবস্থা বুঝে, যাতে কষ্ট কম হয় আর একে একে সব সমস্যা দূর হয়।
- লোভহীনতা: রুকইয়াহকে ব্যবসা নয়, খিদমত ও দাওয়াত হিসেবে দেখেন; অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন না।
রাক্বী বিবাহিত হলে ভালো। পুরুষ হওয়া আবশ্যক নয়, তবে পুরুষ রাক্বী হলে তুলনামূলক ভালো; আর নারী রোগীর ক্ষেত্রে তার মাহরাম পুরুষ রুকইয়াহ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো।
ঝাড়ফুঁকের জন্য কি “ইজাযত” লাগে?
না। “ইজাযত ছাড়া ঝাড়ফুঁক কাজ করে না” কথাটির কোনো শরঈ ভিত্তি নেই; মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.)-ও একে ভিত্তিহীন বলেছেন। তবে যিনি ব্যাপকভাবে মানুষের রুকইয়াহ করতে চান, তাঁর উচিত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি অন্তত কয়েকদিন সরাসরি কোনো অভিজ্ঞ রাক্বীর রুকইয়াহ দেখে শেখা, কারণ ভিডিও দেখা আর বাস্তবে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য। সময়ের সাথে প্রত্যেকের নিজস্ব ধরন তৈরি হয়, তবে তা যেন সুন্নাহর কাছাকাছি থাকে।
পর্দা ও স্পর্শের বিধান মানুন। রাক্বী গাইর মাহরামকে স্পর্শ করবেন না। নারী রোগী পূর্ণ পর্দায় থাকবেন, আর তার বাবা, ভাই বা স্বামীর মতো কোনো মাহরাম অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। জিনের চিকিৎসার জন্যও রোগীর চেহারা দেখার প্রয়োজন নেই। কোনো “রাক্বী” এসব নিয়ম ভাঙলে তার কাছ থেকে দূরে থাকুন।
জাদুকর কবিরাজ চেনার লক্ষণ
অনেক কবিরাজ মুখে কুরআন পড়ে, টুপি-দাড়ি রাখে, এমনকি টাকা কম নেয় বা নেয়ই না। এতে বিভ্রান্ত হবেন না। নিচের কোনো একটি লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন সে শয়তানের সাহায্য নিচ্ছে:
- রোগীর চুল, রুমাল, ওড়না বা ব্যবহৃত কাপড় চায়, কিংবা মায়ের নাম জানতে চায়।
- কাগজে নাম, দোয়া বা আয়াত লিখে পোড়াতে, মাটিতে পুঁততে বা উঁচুতে ঝুলিয়ে রাখতে বলে।
- মনের মানুষকে বশ করা, প্রেম বা “মিল” করিয়ে দেওয়ার তদবীর করে।
- পাখি বা প্রাণী জবাই করতে বলে, রক্ত চায়, কিংবা উৎসর্গ বা “ভোগ” দিতে বলে।
- দুর্বোধ্য নকশা, ঘর কাটা সংখ্যা বা অজানা নাম লেখা তাবিজ দেয়; আয়াতের ফাঁকে শয়তান, জিন বা ফেরেশতাদের নাম লিখে সাহায্য চায়।
- জোরে কুরআন পড়ে আর আস্তে বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ে।
- হাত দেখে, চেহারা দেখেই অতীত-বর্তমানের কথা বলতে শুরু করে, বা অদৃশ্যের খবর জানার দাবি করে।
- অন্য কারো ওপর জিন “হাজির” করে কথা বলায়, কিংবা বলে “জিন বোতলে ভরেছি”, “অমুক দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি”।
- হাড় দিয়ে রোগীকে ছোঁয়, বা মন্ত্র পড়ে পেট, হাত বা নাভি থেকে অদ্ভুত জিনিস “বের করে” দেখায়।
- নির্দিষ্ট দিন অন্ধকার ঘরে থাকতে বা পানি না ছুঁতে বলে।
- রোগীকে কাপড় খুলতে বলে বা কোনো অশ্লীল কাজের দিকে ডাকে।
এমন কবিরাজের চিকিৎসায় এক সমস্যা কমলে আরেক সমস্যা তৈরি হয়; অনেকে বারবার টাকা নেওয়ার জন্য নিজেই আবার জাদু করে, কারণ রোগীর তথ্য ও জিনিসপত্র তার কাছেই থাকে। বিস্তারিত পড়ুন জাদু: লক্ষণ ও সাধারণ রুকইয়াহ।
জাদু দিয়ে জাদু কাটানো হারাম। জাদুর চিকিৎসা জাদু দিয়ে করা (নুশরা) এবং তা করানো, দুটোই গুনাহ; মন্ত্রে কুফরী কথা থাকলে তা কুফর, উদ্দেশ্য যত ভালোই হোক। জিনের সাহায্য নেওয়া, তাবিজ-কবচ, সংখ্যা-নকশার তদবীর আর অদৃশ্যের খবরে বিশ্বাস ঈমান নষ্ট করে। সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী চিকিৎসা হলো শুধু কুরআন আর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দোয়া দিয়ে রুকইয়াহ, পাশাপাশি প্রয়োজনে ডাক্তারের চিকিৎসা। কাউকে কবিরাজের কাছে যেতে দেখলে হিকমতের সাথে বোঝান এবং রুকইয়াহ শারইয়্যাহর কথা জানান।
সূত্র: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুকইয়াহ (পৃ. ৪৭–৬১, ১৫৪–১৫৬), এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি (ruqyahbd.org)। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি পড়ুন।