রুকইয়াহ শুরু করার পর অনেকের মনে তিনটি প্রশ্ন জাগে: শরীর এমন লাগছে কেন, এত দিন হয়ে গেল তবু পুরো ভালো হচ্ছি না কেন, আর কবে থামাব? এই লেখায় এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে দেওয়া হলো, সাথে কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তাও।
রুকইয়ার সময় ও পরে কেমন লাগতে পারে
বেশিরভাগ মানুষের রুকইয়ায় তেমন কষ্ট হয় না। রুকইয়ার সময় কিছু প্রতিক্রিয়া বা অল্প অস্বস্তি হলেও শেষে দ্রুত কেটে যায়। তবে কারো কারো বেশ ধকল যায়। কেউ এতটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে রাক্বীর কাছ থেকে নিজে বাড়ি ফেরার মতো অবস্থাও থাকে না; অনেক বোন সেলফ রুকইয়ার পর এত দুর্বল হয়ে যান যে রান্নাবান্নাও করতে পারেন না। এমনটা সবসময় হয় না, তবে মাঝে মাঝে হয়।
- ভয়ের কিছু নেই যদি: প্রথম ৩–৪ দিন খুব কষ্ট হয়, তারপর ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।
- অভিজ্ঞ কারো সাথে কথা বলুন যদি: দেড়-দুই সপ্তাহ পরেও সমস্যা একই জায়গায় থাকে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আগের মতোই চলতে থাকে। তখন সম্ভবত আপনার নিজের বা রুকইয়ার পদ্ধতিতে কোনো গড়বড় আছে।
কারো কারো ক্ষেত্রে একাধিক শয়তান একটা একটা করে বের হয়, তাই ধকল সামলাতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। বদনজর, জিন ও জাদুর রোগীদের রুকইয়ায় সাধারণত কী কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তা সংশ্লিষ্ট লেখাগুলোতে আছে: বদনজর, জিনের সমস্যা, জাদু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর ৫টি উপায়
- বিশ্রাম দিন: আপনি রাক্বী হলে রুকইয়ার পর রোগীকে অবস্থা বুঝে ১০ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিতে দিন।
- ওযু করুন বা হাত-মুখ ধুয়ে নিন: এতে অনেক হালকা লাগে।
- প্রস্রাব-পায়খানা সেরে আসুন: অনেক সময় শরীরের ভেতরের খারাপ জিনিস টয়লেটে গেলে বেরিয়ে যায়।
- রুকইয়ার পানি পান করুন: তাৎক্ষণিক সুস্থতার নিয়তে সূরা ফাতিহা এবং ছয়টি আয়াতুশ শিফা (৯:১৪, ১০:৫৭, ১৬:৬৯, ১৭:৮২, ২৬:৮০, ৪১:৪৪) ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করুন।
- রুকইয়ার গোসল করুন: এক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষ করে মাথাব্যথা, হাত-পা বা সারা শরীরে ব্যথা কিংবা খুব দুর্বল লাগলে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে গোসল করুন। অন্য নিয়মগুলো দেখুন রুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদান লেখায়।
জিনের রোগীর কয়েকদিন ধরে রুকইয়াহ লাগলে প্রতিদিনের রুকইয়ার শেষে তাকে রুকইয়ার গোসল করানো উচিত।
খাওয়াদাওয়া: রোগের দুর্বলতা আর রুকইয়ার ধকল মিলে লম্বা সময় রুকইয়াহ করলে যে কারো শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই এই দিনগুলোতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান, আর খাওয়ার শুরুতে অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলুন (দেখুন খাওয়ার শুরুতে)।
বমিভাব: রুকইয়ার সময় বমি বমি লাগলে আটকানোর চেষ্টা করবেন না। পেটে খারাপ কিছু থাকলে বেরিয়ে আসাই ভালো। রুকইয়ার প্রভাবে শরীরের খারাপ জিনিস বের হয়ে যায়, সেগুলোকে বের হতে দিন।
রুকইয়ার ধকলে শরীর বা মাথা ব্যথা করলে বইয়ের পরামর্শ হলো, ব্যথার ওষুধ না খেয়ে বিশ্রাম ও রুকইয়ার গোসলের ওপর ভরসা করা, কারণ এতে কখনো উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে এটা শুধু রুকইয়ার সাময়িক ধকলের জন্য। ডাক্তারের দেওয়া নিয়মিত ওষুধ কখনো বন্ধ করবেন না, আর ব্যথা তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান: জিনের রোগী রুকইয়ার পর ১০–১৫ মিনিট অচেতন থেকে জ্ঞান ফিরে পেলে সাধারণত দুশ্চিন্তার কিছু নেই; কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে এবং মুখে বারবার পানি ছিটিয়েও জ্ঞান না ফিরলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিন। বমির ক্ষেত্রেও একই কথা: রুকইয়ার সময় বমিভাব হয়ে পরে ঠিক হয়ে গেলে ভয়ের কিছু নেই; কিন্তু বমি না থামলে, ৫–৭ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে বা বারবার রক্তবমি হলে দেরি না করে হাসপাতালে যান। রক্তবমি বা রক্ত মেশানো বমি নিয়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। মোট কথা, অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে আগে চিকিৎসা, তারপর রুকইয়াহ।
সুস্থ হতে আমার এত দেরি লাগছে কেন?
কেউ মাসের পর মাস সব নিয়ম মেনেও পুরো সুস্থ হচ্ছেন না, আবার কেউ কয়েকদিন বা সপ্তাহে কয়েক মিনিট রুকইয়াহ করেই জানতে চান কেন এখনো ভালো হলেন না। দুই ক্ষেত্রেই কিছু বিষয় বোঝা দরকার।
প্রথমত: প্রত্যাশা আর বাস্তবতা
সঠিক পদ্ধতিতে করছি বলে দুই দিনেই সব ঠিক হয়ে যাবে, এমন ভাবা ভুল। ক্যান্সারের রোগী যেমন এক ডোজ কেমোথেরাপিতে সুস্থ হওয়ার আশা করেন না, তেমনি পুরোনো ও গভীর সমস্যায় রুকইয়াতেও সময় লাগে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কেউ তিন দিনে জাদু থেকে মুক্ত হয়েছেন, কেউ দুই বছরেও পুরো ভালো হননি। কোনো জিন আধঘণ্টার রুকইয়ায় চলে গেছে, কোনোটির জন্য সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন ৪–৫ ঘণ্টা রুকইয়াহ লেগেছে। জাদুকর বারবার নতুন করে জাদু করতে থাকলে সময় আরও বেশি লাগে। তাই সমস্যার বিস্তার ও গভীরতা অনুযায়ী সময় কমবেশি লাগবে; কয়েকদিনেই হতাশ হবেন না, আবার অবাস্তব আশাও করবেন না।
দ্বিতীয়ত: এটা একটা লড়াই, ফয়সালা আল্লাহর হাতে
এই চিকিৎসা আসলে আপনার আর শয়তানের বাহিনীর মধ্যে একটা লড়াই, যেখানে ছোট ছোট অনেক পর্ব আছে; কখনো আপনি জিতবেন, কখনো পিছিয়ে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ সবচেয়ে নিখুঁত মানুষ হয়েও বিশ বছরের বেশি সময় শত্রুর মোকাবিলা করেছেন। উহুদের পরাজয় প্রসঙ্গে আল্লাহ জানিয়েছেন, এই দিনগুলো তিনি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলান, যাতে ঈমানদারদের চিনে নেন (আলে ইমরান ৩:১৪০)। আগের উম্মতদের ওপরও এমন কষ্ট এসেছে যে তারা বলে উঠেছিল, আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে; আর আল্লাহর সাহায্য নিকটেই (আল-বাকারা ২:২১৪)।
আপনার কাজ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। অসুস্থতা ও কষ্টে মুমিনের গুনাহ মাফ হয়, এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও। (বুখারী ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭৩) মৃগীরোগে আক্রান্ত এক নারী সবর করার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। (বুখারী ৫৬৫২, মুসলিম ২৫৭৬) দীর্ঘ রুকইয়ায় পুরো সুস্থ না হয়েও অনেকে ঈমান-আমলে অনেক এগিয়ে গেছেন, এটাও কম প্রাপ্তি নয়।
তৃতীয়ত: অস্ত্র ঠিক আছে, হাতটা দেখুন
রুকইয়ায় কুরআন আপনার অস্ত্র, আর সেই অস্ত্রে কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু যে হাত অস্ত্র ধরেছে তা দুর্বল হতে পারে, কিংবা লক্ষ্য ঠিক না-ও থাকতে পারে। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন:
- রুকইয়ার পদ্ধতি ঠিক আছে তো? কিছু বাদ পড়ছে কি?
- নিয়ত ঠিক ও নির্দিষ্ট আছে কি?
- রুকইয়াহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হচ্ছে কি?
- এমন কোনো বড় গুনাহ রয়ে গেছে কি, যা থেকে এখনো তাওবা করা হয়নি?
আত্মসমালোচনা জরুরি, তবে তা যেন হতাশায় না গড়ায়। ইয়াকুব (আ.) সন্তানদের বলেছিলেন, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; কাফির ছাড়া কেউ তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয় না (ইউসুফ ১২:৮৭)।
কখন চিন্তার কারণ আছে
রুকইয়ার কারণে সমস্যা কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে, এটা ভালো লক্ষণ: রুকইয়াহ কাজ করছে, শুকরিয়া আদায় করুন। চিন্তার কারণ মূলত দুটি:
- কয়েক মাস সবকিছু ঠিকমতো করার পরও সামগ্রিক অবস্থার কোনো উন্নতি নেই।
- রুকইয়ায় কোনো প্রতিক্রিয়াই নেই; না উন্নতি, না অবনতি, সমস্যা এক জায়গায় স্থির।
স্থির অবস্থা থেকে বের হওয়ার উপায়
- গোড়া থেকে যাচাই করুন: ফরয গোসল ঠিকমতো হয় কি না; রোগীর সাথে বা ঘরে কোনো তাবিজ আছে কি না; প্রাণীর ছবি ঝোলানো আছে কি না; আকীদা, নিয়ত বা চরিত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না; আয়-রোজগার হালাল কি না; বিশেষ কোনো গুনাহে আসক্তি আছে কি না। আর কীভাবে রুকইয়াহ করতে বলা হয়েছিল এবং বাস্তবে কীভাবে করা হয়েছে, তা মিলিয়ে দেখুন।
- রুকইয়াহ কমিয়ে নিয়মিত করুন: সব ঠিক থাকলে প্রথমে রুকইয়ার পরিমাণ একদম কমিয়ে দিন, যাতে অল্প হলেও প্রতিদিন হয়। যেমন শুধু সূরা ফাতিহা ও তিন কুল (তিন কুল: সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা, আর যতটুকু পারেন রুকইয়াহ শোনা। উন্নতি হলে ধীরে ধীরে বাড়ান।
- সামগ্রিক জীবন ঠিক করুন: বিশেষ কোনো গুনাহ থাকলে তা ছাড়ুন, মাহরাম-গাইর মাহরামের সীমা মানুন, ঠিকমতো নামায পড়ুন, গান-বাজনা থেকে দূরে থাকুন এবং যথাসম্ভব দৃষ্টির হেফাযত করুন।
- প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তিগফার করুন। নামাযে অনিয়ম থাকলে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পর ২০ বার করে “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়ুন; এতে দিনে ১০০ বার হয়ে যাবে, নামাযও নিয়মিত হবে।
- তাহাজ্জুদে গুরুত্ব দিন: প্রাথমিক দ্বীনদারি ঠিক থাকলে রাতের নামায ও দোয়ায় জোর দিন।
সবর করুন, নিজেকে যাচাই করুন, আর আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থেকে চেষ্টা ও দোয়া চালিয়ে যান।
কীভাবে বুঝবেন রুকইয়াহ শেষ?
রোগের লক্ষণগুলো একেবারে চলে গেলে এবং রোগী পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেলে সাধারণত বলা যায় রুকইয়াহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই সুস্থতা একবারে আসে না, আসে ধাপে ধাপে, আর প্রতিটি ধাপের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকে। বেশিরভাগ রোগী ভুলটা করেন ঠিক তখন, যখন একটু ভালো লাগতে শুরু করে। আবার অনেক সময় জিনের লক্ষণ খুব প্রকট হওয়ার একটু পরই জিন চলে যায়। শেষের দিকে এই বিষয়গুলো মনে রাখুন:
- ভালো লাগলেই থামবেন না: রোগীদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো জিন চলে গেলে বা একটু ভালো বোধ করলেই রুকইয়াহ বন্ধ করে দেওয়া। এতে অনেক সময় জিন ফিরে আসে বা অন্য জিন প্রবেশ করে, জাদুর সমস্যা আবার বেড়ে যায়, কিংবা বদনজরের দুর্বলতার ফাঁক দিয়ে জিনের আসর হয়। জিন চলে গেলেও তার প্রভাবের লক্ষণ অনেকদিন থাকতে পারে। তাই জিন চলে যাওয়ার পরও কমপক্ষে এক মাস আগের মতো স্বাভাবিক মাত্রায় রুকইয়াহ চালিয়ে যান, যতক্ষণ না পূর্ণ আস্থা নিয়ে বলতে পারেন যে আপনি সুস্থ। এ সময় রাক্বীকেই পড়তে হবে এমন নয়; রোগী নিজে বা পরিবারের কেউ পড়তে পারেন।
- ১০০ ভাগ নিশ্চিত হোন: “প্রায় সুস্থ” হয়ে গেলেও থামবেন না। ৮০ বা ৯০ ভাগ নিশ্চয়তা যথেষ্ট নয়; জিন চলে গেছে বা জাদুর সব লক্ষণ দূর হয়েছে, এ ব্যাপারে পুরো নিশ্চিত হতে হবে। ক্যান্সারের অবশিষ্ট সামান্য কোষ থেকে যেমন রোগ আবার ফিরতে পারে, তেমনি ১০ ভাগ সমস্যা থেকে গেলেও তা আবার বাড়তে পারে।
- প্রতিটি ধাপে ধৈর্য ধরুন: প্রতিটি ধাপে শয়তান নতুন কৌশলে আসে। যেমন শরীরের ঝাঁকুনি বা অচেতন হওয়া বন্ধ হলো, কিন্তু শুরু হলো ওয়াসওয়াসা; ওয়াসওয়াসা কমলে আসে ইবাদতে অলসতা। জাদুর রোগীর দ্বিতীয় ধাপে নতুন কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা আরও কিছুদিন রুকইয়ার পর তৃতীয় ধাপে চলে যায়। পরিস্থিতি ভালো বা মন্দ যাই হোক, সমান গতিতে ধারাবাহিকভাবে রুকইয়াহ চালিয়ে যান, আর প্রয়োজনে বাড়তি রুকইয়াহ যোগ করুন; যেমন জাদুর রুকইয়ার পাশাপাশি কিছুদিন ওয়াসওয়াসার রুকইয়াহ।
- সুস্থ হওয়ার পরও সতর্ক থাকুন: বড় অপারেশনের পর রোগী যেমন কিছুদিন সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন, রুকইয়াহ শেষে রোগীও তেমনি আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এ সময় সকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের আগে ও অন্যান্য সময়ের মাসনূন আমল যত্নের সাথে পালন করুন। দেখুন জাদু ও জিন থেকে হেফাযতের মাসনূন আমল।
- আবার শুরু হলে দেরি করবেন না: সমস্যা আবার ফিরে আসছে মনে হলে দেরি না করে পুরো গুরুত্ব দিয়ে রুকইয়াহ শুরু করুন। এত কষ্টে পাওয়া সুস্থতা অবহেলায় হারানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সব সমস্যা জিন-জাদু নয়। দীর্ঘদিন রুকইয়ার পরও উপসর্গ না কমলে শারীরিক বা মানসিক কোনো রোগ আছে কি না, তা ডাক্তার বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে অবশ্যই যাচাই করান। রুকইয়াহ চিকিৎসার পাশাপাশি চলবে, বিকল্প হিসেবে নয়। আর হতাশ হয়ে কোনোভাবেই কবিরাজ, তাবিজ বা জাদু দিয়ে জাদু কাটানোর পথে যাবেন না।
সূত্র: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুকইয়াহ (পৃ. ৬৪–৬৬, ২৪৫–২৫২), এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি (ruqyahbd.org)। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি পড়ুন।