duabd

লেখা

সাধারণ অসুস্থতায় রুকইয়াহ

ব্যথা, মানসিক চাপ, অনিদ্রা, চোখ, তোতলামি, শ্বাসকষ্ট, হাড়ক্ষয় ও ক্লান্তিতে ডাক্তারের চিকিৎসার পাশাপাশি সুন্নাহসম্মত রুকইয়ার নিয়ম।

রুকইয়াহ শুধু জিন, জাদু বা বদনজরের জন্য নয়। জ্বর, ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রার মতো সাধারণ অসুখেও কুরআন ও মাসনূন দোয়া দিয়ে রুকইয়াহ করা যায়। এখানে “সাধারণ অসুস্থতা” মানে এমন রোগ, যার পেছনে বদনজর, জিন বা জাদুর যোগসূত্র নেই এবং যার কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান ভালোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারে। এই লেখায় রোগভিত্তিক নিয়মগুলো ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

কুরআন সব রোগের জন্য শিফা

কুরআন যেমন অন্তরের রোগ (গুনাহ, ভ্রান্তি) সারায়, তেমনি শারীরিক-মানসিক, স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক সব রোগেরই আরোগ্য। হাদীসের গ্রন্থগুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবীদের অনেক ঘটনা আছে, যেখানে দোয়া ও রুকইয়াহ দিয়ে শারীরিক বা মানসিক কষ্টের চিকিৎসা করা হয়েছে। দেখুন: রুকইয়াহ কী?

অসুখের পেছনে অন্য কিছু আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

  1. লক্ষণ মিলিয়ে দেখা: বদনজর, জিন ও জাদু-এর লেখাগুলোতে দেওয়া লক্ষণের সাথে মিলিয়ে দেখুন। অনেকগুলো মিলে গেলে তা কাকতালীয় নাও হতে পারে।
  2. রুকইয়াহ করে দেখা: নিজে রুকইয়ার আয়াত তিলাওয়াত করে বা অন্যের তিলাওয়াত শুনে প্রতিক্রিয়া বোঝা যায়।

তবে “এটা জিন, নজর, না সাধারণ পেটব্যথা” ভেবে দিনের পর দিন অস্থির হওয়ার চেয়ে আগে রুকইয়াহ শুরু করে দেওয়া ভালো। হয়তো সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিলেই সেরে যাবে; পুরো না সারলেও কিছু উপকার তো হবে।

চিকিৎসা ও রুকইয়াহ: দুটোই

অসুখে ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া ও ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি রুকইয়াহ করাই রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ ও সালাফের পথ। গ্রাম থেকে আসা লোকেরা জিজ্ঞেস করেছিল, আমরা কি চিকিৎসা করাব না? তিনি বললেন, “হে আল্লাহর বান্দারা, চিকিৎসা করো। আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার ওষুধ দেননি, একটি ছাড়া: বার্ধক্য।” (আবু দাউদ ৩৮৫৫, তিরমিযী ২০৩৮)

রুকইয়াহ ডাক্তারি চিকিৎসার বিকল্প নয়। শুধু রুকইয়াহ করে বসে থাকবেন না, আর চলমান ওষুধ নিজে থেকে কখনো বন্ধ করবেন না। বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া, উচ্চ জ্বর, রক্তপাত বা হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর মতো জরুরি অবস্থায় আগে হাসপাতালে যান; রুকইয়াহ সাথে সাথে চলতে পারে।

রুকইয়ার পাঁচটি মৌলিক পদ্ধতি

প্রতিটি রোগের জন্য আলাদা নিয়ম বলা কঠিন। তাই নিচের মৌলিক পদ্ধতিগুলো জেনে রাখুন; আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে একটু বুঝে-শুনে এগুলো যেকোনো অসুখে কাজে লাগানো যায়। রাসূল ﷺ কখনো রোগীর মাথা বা কপালে হাত রেখে পড়তেন, কখনো পড়ে ফুঁ দিতেন, কখনো শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন।

  1. আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে সরাসরি রোগীকে ফুঁ দিন, বিশেষ করে আক্রান্ত অঙ্গে।
  2. রোগীর মাথায়, অথবা ব্যথার জায়গা বা আক্রান্ত অঙ্গে হাত রেখে পড়ুন।
  3. পড়ে কালোজিরার তেল বা অলিভ অয়েলে ফুঁ দিন, তারপর আক্রান্ত জায়গায় মালিশ করুন।
  4. পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক বেলা পান করুন। গোসলের পানিতে ফুঁ দিয়ে, বা রুকইয়ার পানি মিশিয়ে গোসল করুন। পানি তৈরির সময় নিয়ত করুন: “আমি অমুক রোগের জন্য রুকইয়াহ করছি।”
  5. মধু, কালোজিরা বা ডাক্তারের দেওয়া ওষুধে পড়ে ফুঁ দিয়ে খান। মলম বা ক্রিমে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগান।

এর পাশাপাশি সুস্থতার নিয়তে রুকইয়ার আয়াত তিলাওয়াত করুন, বা রুকইয়ার নিয়তে তিলাওয়াত শুনুন। উপকরণ তৈরির বিস্তারিত: রুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদান।

গায়রে মাহরাম (যাকে স্পর্শ করা জায়েয নয়) কারও ওপর রুকইয়াহ করলে শরীরে হাত রাখবেন না; শুধু পড়ে ফুঁ দিন, অথবা পানি বা তেলে পড়ে দিন।

কী পড়বেন: সাধারণ তালিকা

কুরআন থেকে:

হাদীসের দোয়া:

  1. আল্লাহুম্মা রব্বান নাস: অসুস্থের জন্য রুকইয়াহ (বুখারী ৫৭৪৩, মুসলিম ২১৯১)
  2. জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি আরকীক (মুসলিম ২১৮৬)
  3. জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি ইউবরীক (মুসলিম ২১৮৫)
  4. “বিসমিল্লাহ” ৩ বার, তারপর আশ্রয়ের দোয়াটি ৭ বার: শরীরে ব্যথা হলে (মুসলিম ২২০২)
  5. ৭ বার: রোগীর সুস্থতার জন্য ৭ বার (আবু দাউদ ৩১০৬, তিরমিযী ২০৮৩)

নবীদের দোয়া: আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া, মূসা (আ.)-এর দোয়া মূসা (আ.)-এর দোয়া: রিযিক ও কল্যাণের প্রয়োজনে এবং ইউনুস (আ.)-এর দোয়া দোয়া ইউনুস।

রোগভিত্তিক রুকইয়াহ

শরীরের যেকোনো ব্যথা

উসমান ইবনু আবিল আস (রা.) শরীরের ব্যথার কথা জানালে রাসূল ﷺ তাঁকে এই আমল শেখান; তিনি তা করার পর ব্যথা সেরে যায়। (মুসলিম ২২০২)

  1. ব্যথার জায়গায় হাত রাখুন।
  2. ৩ বার বলুন: “বিসমিল্লাহ”।
  3. ৭ বার পড়ুন: শরীরে ব্যথা হলে
  4. প্রয়োজনে একই নিয়মে কয়েকবার করুন।

সাথে সাথে ফল না পেলে হতাশ হবেন না। অনেক সময় ঘুম থেকে ওঠার পর বা কিছুদিন পর উপকার টের পাওয়া যায়; আর দোয়ার বিনিময়ে আল্লাহ হয়তো আরও ভালো কিছু রেখেছেন।

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও হতাশা

যেকোনো মানসিক কষ্টে কুরআন তিলাওয়াত আর আল্লাহর যিকির খুব উপকারী: আল্লাহর যিকিরে অন্তরের প্রশান্তি: আলা বিযিকরিল্লাহ (সূরা রা‘দ ১৩:২৮) (আর-রা’দ ১৩:২৮)

  1. হতাশা ও মানসিক চাপে (ডিপ্রেশনে) চিকিৎসার নিয়তে সূরা ইউসুফ ও সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াত করুন।
  2. অন্যান্য মানসিক সমস্যায় সূরা ইয়াসীন, সাফফাত, দুখান ও জিন-এর সম্মিলিত রুকইয়াহ (যা “৮ সূরার রুকইয়াহ” নামে পরিচিত) শুনুন বা পড়ুন।
  3. নিজে তিলাওয়াত করাই সবচেয়ে ভালো; না পারলে কারও তিলাওয়াত শুনুন। সাধারণ তিলাওয়াত আর আরোগ্যের নিয়তে তিলাওয়াতের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে, তাই নিয়ত করে নিন।
  4. সাথে রুকইয়ার পানি পান করুন ও তা দিয়ে গোসল করুন।
  5. ঘুমের আগে রোগীর মাথায় রুকইয়ার তেল দিন।

দীর্ঘ বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা, বাস্তবতার সাথে সংযোগ হারানো, কণ্ঠ শুনতে পাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করতে না পারার মতো অবস্থায় অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। মানসিক রোগের চিকিৎসা নেওয়া ঈমানের দুর্বলতা নয়; রুকইয়াহ তার সাথে চলবে। ওয়াসওয়াসার বিষয়ে আলাদা লেখা: ওয়াসওয়াসা রোগ: মুক্তির উপায়।

অনিদ্রা

  1. ওযু করে বিছানায় যান।
  2. ঘুমের আগের মাসনূন আমলগুলো করুন। দেখুন: হেফাযতের মাসনূন আমল।
  3. এই দোয়াটি পড়ুন: ঘুম না এলে প্রচলিত দোয়া: আল্লাহুম্মা গারাতিন নুজুম যায়দ ইবনু সাবিত (রা.) অনিদ্রার কথা জানালে রাসূল ﷺ এটি পড়তে বলেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। (তাবারানী; সনদ দুর্বল, তবে চিকিৎসা হিসেবে আমল করা যায়)
  4. সূরা ইয়াসীন, সাফফাত, দুখান ও জিনের রুকইয়াহ (৮ সূরার রুকইয়াহ) শুনুন।

জিনের সমস্যার কারণে ঘুম না হলে সেই অনুযায়ী রুকইয়াহ লাগবে: জিনের সমস্যা: লক্ষণ ও চিকিৎসা।

চোখের সমস্যা

  1. প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পর সূরা ফাতিহা ১ বার পড়ুন।
  2. সূরা ক্বাফের ২২ নম্বর আয়াতের শেষ অংশ ৩ বার পড়ুন: চোখের সমস্যায় রুকইয়াহ: ফাবাসারুকাল ইয়াওমা হাদীদ (সূরা ক্বাফ ৫০:২২) (ক্বাফ ৫০:২২)
  3. দুই হাত মুখের কাছে এনে এমনভাবে ফুঁ দিন যেন চোখে বাতাস লাগে, অথবা হাতে ফুঁ দিয়ে চোখের ওপর বুলিয়ে নিন।

নামাযের পরে করতে বলার কারণ, তখন দোয়া কবুলের আশা বেশি, আর রুকইয়াহও এক ধরনের দোয়া। তবে অন্য যেকোনো সময়েও করা যায়।

তোতলামি

তোতলামি দুই রকম হতে পারে: জন্মগত বা কোনো রোগের কারণে, অথবা বদনজরের কারণে। বদনজরজনিত হলে সাধারণত দেখা যায়, যে আগে সুন্দর করে কথা বলত, সে হঠাৎ তোতলাতে শুরু করেছে বা কথা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে; শিশু-বড় সবারই হতে পারে।

  1. জন্মগত বা রোগজনিত হলে: দিনে কয়েকবার, সম্ভব হলে প্রতি নামাযের পর মূসা (আ.)-এর দোয়া পড়ুন: রব্বিশ রাহলী সাদরী (মূসা আ.-এর দোয়া) (ত্বহা ২০:২৫–২৮)
  2. সাথে উপরের “সাধারণ তালিকা”র আয়াত ও দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন পান করুন।
  3. বদনজরের কারণে হলে: দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব কিছুদিন বদনজরের রুকইয়াহ করুন, আর সাথে উপরের দুটি কাজও চালিয়ে যান।

শিশুর কথা বলায় সমস্যা থাকলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শও নিন।

শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের সমস্যা

হঠাৎ হাঁপানির টান, দম আটকে আসা কাশি, অ্যালার্জিতে লাগাতার হাঁচি বা চোখ চুলকানো, অথচ হাতের কাছে ওষুধ নেই বা রোযার কারণে কিছু খাওয়া যাচ্ছে না: এমন সময় এই আমল করুন।

  1. দুই হাত মুনাজাতের মতো করে মুখের কাছে আনুন।
  2. হাতের ওপর সূরা ফাতিহা ৩ বা ৭ বার পড়ুন।
  3. তারপর দুই হাত দিয়ে অক্সিজেন মাস্কের মতো নাক-মুখ ঢেকে জোরে জোরে শ্বাস নিন।
  4. মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার করুন।
  5. দীর্ঘস্থায়ী উপকারের জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল এভাবে করুন।
  6. সাথে “সাধারণ তালিকা”র আয়াত ও দোয়া পড়ে অলিভ অয়েল ও মধুতে ফুঁ দিন; প্রতিদিন বুকে তেল মালিশ করুন এবং মধু খান।

ব্যাপারটা এমন, যেন হাতটা নেবুলাইজারের মাস্ক, আর শ্বাসের সাথে আল্লাহর কালামের শিফা টেনে নিচ্ছেন। তবে ইনহেলার বা ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ হাতের কাছে থাকলে তা ব্যবহার করুন; এই আমল তার পরিপূরক।

হাড়ক্ষয় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা

কুরআনের যেসব আয়াতে “ইজাম” (হাড়) শব্দটি আছে, সেগুলোকে আয়াতে ইজাম বলে। হাড়ক্ষয় ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় এগুলো বিশেষ উপকারী: আল-বাকারা ২:২৫৯; আল-ইসরা ১৭:৪৯ ও ১৭:৯৮; মারইয়াম ১৯:৪; আল-মু’মিনূন ২৩:১৪, ২৩:৩৫ ও ২৩:৮২; ইয়াসীন ৩৬:৭৮–৭৯; আস-সাফফাত ৩৭:১৬ ও ৩৭:৫৩; আল-ওয়াকিআ ৫৬:৪৭; আল-কিয়ামাহ ৭৫:৩–৪; আন-নাযিআত ৭৯:১১।

  1. আয়াতগুলো পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিন এবং আক্রান্ত জায়গায় হাত বুলিয়ে দিন। সব আয়াত পড়তে না পারলে শুধু ইয়াসীনের হাড়ের ব্যথা ও হাড়ক্ষয়ে: সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৮–৭৯ (আয়াতে ইযাম) এবং কিয়ামাহর হাড়ের ব্যথা ও হাড়ক্ষয়ে: সূরা কিয়ামাহ ৭৫:৩–৪ (আয়াতে ইযাম) আয়াতগুলো কয়েকবার পড়ুন।
  2. সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েকবার এভাবে করুন।
  3. অলিভ অয়েলে পড়ে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন আক্রান্ত জায়গায় মালিশ করুন।
  4. সম্ভব হলে অভিজ্ঞ কারও কাছে হিজামা করান; হাড়ক্ষয়ে এটি বেশ কার্যকর বলে অভিজ্ঞতা আছে। ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসা ও ব্যায়াম চালিয়ে যান।

অলসতা, ক্লান্তি ও শারীরিক দুর্বলতা

আটা পেষার কষ্টে ফাতিমা (রা.) রাসূল ﷺ-এর কাছে একজন খাদিম চাইতে গিয়েছিলেন। তিনি তাকে ও আলী (রা.)-কে খাদিমের চেয়ে উত্তম একটি আমল শিখিয়ে দিলেন। (বুখারী ৩১১৩, মুসলিম ২৭২৭)

  1. শোয়ার সময় ৩৪ বার “আল্লাহু আকবার” বলুন।
  2. ৩৩ বার “আলহামদুলিল্লাহ” বলুন।
  3. ৩৩ বার “সুবহানাল্লাহ” বলুন।

এই আমলে কর্মশক্তি বাড়ে, অলসতা ও অল্পতেই ক্লান্ত হওয়ার ভাব কাটে, নামাযে আলসেমিও দূর হয়। ঘুমের আগে তো করবেনই; দিনের মধ্যে ক্লান্তি চেপে ধরলে তখনই করে নিতে পারেন। ক্লান্তি দূর হয়, কাজ সহজ হয়, আবার ১০০ তাসবীহের সওয়াবও জমা হয়। দীর্ঘ ক্লান্তি থাকলে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের মতো কারণ আছে কি না, ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।

সারকথা

  • ডাক্তারের চিকিৎসা চালিয়ে যান, সাথে উপরের এক বা একাধিক পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করুন।
  • তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নামায পড়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করুন, এবং সাধ্যমতো দান করুন।
  • রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহর ফায়সালা ও তাকদীরের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় বদনজরে। (মুসনাদে আবু দাউদ ত্বয়ালিসী ১৮৫৮) তাই চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল না পেলে চিকিৎসা চালু রেখেই বদনজরের রুকইয়াহ করুন।
  • রোগ জটিল হলে আল-আশফিয়া: ৭ দিনের রুকইয়াহ ডিটক্স করে দেখতে পারেন।
  • বিস্তারিত দোয়ার জন্য হাদীসগ্রন্থ, বিশেষত তিরমিযীর চিকিৎসা অধ্যায় দেখা যেতে পারে।

অসুখ সারাতে কবিরাজ, তাবিজ-কবচ, পানিপড়ার নামে অজানা মন্ত্র বা “জিন দিয়ে চিকিৎসা” থেকে দূরে থাকুন; এগুলো শিরক ও প্রতারণার দরজা খোলে। কুরআন, মাসনূন দোয়া, বৈধ ওষুধ আর আল্লাহর ওপর ভরসাই যথেষ্ট।

সূত্র: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুকইয়াহ (পৃ. ২২৬–২৩৫), এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি (ruqyahbd.org)। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি পড়ুন।

আরও পড়ুন

রুকইয়াহ কী?রুকইয়াহ শারইয়্যাহর অর্থ, জায়িয হওয়ার তিন শর্ত, রুকইয়ার তিন স্তর, জরুরি পরিভাষা এবং কেন প্রত্যেক পরিবারে কারো না কারো রুকইয়াহ জানা দরকার।লেখাসুন্নাহসম্মত রুকইয়াহর ১০টি পদ্ধতিশুধু তিলাওয়াত, হাত রেখে পড়া, ফুঁ, হালকা থুতু, হাত বুলানো, পানি-লবণ, মাটি ও টানা কয়েক দিন: হাদীসে আসা রুকইয়ার দশটি পদ্ধতি ও প্রয়োগের নিয়ম।লেখারুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদানরুকইয়ার আগে ঘর ও মন প্রস্তুত করা, রুকইয়ার পানি, যমযম, মধু, কালোজিরা, বরই পাতা, রুকইয়ার গোসলের নিয়ম এবং রুকইয়ার অডিও নিয়ে জরুরি প্রশ্নোত্তর।লেখানিজে রুকইয়াহ, নাকি রাক্বীর কাছে?সত্তর হাজারের হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা, কখন নিজে আর কখন অন্যকে দিয়ে রুকইয়াহ করাবেন, ভালো রাক্বীর বৈশিষ্ট্য এবং জাদুকর কবিরাজ চেনার লক্ষণ।লেখারুকইয়াহর পর প্রতিক্রিয়া, দেরি ও শেষ বোঝারুকইয়ার পর ক্লান্তি, ব্যথা বা বমি হলে কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন, সুস্থ হতে কেন দেরি হয় এবং কীভাবে বুঝবেন রুকইয়াহ সত্যিই শেষ।লেখাবদনজর: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবদনজর সত্য, তবে এর চিকিৎসা সহজ। লক্ষণ, প্রতিদিনের সুরক্ষা আর ওযুর পানি, দোয়া ও রুকইয়ার গোসলসহ চারটি পদ্ধতি ধাপে ধাপে।লেখাজিনের সমস্যা: লক্ষণ ও চিকিৎসাজিনের আসর কেন ও কখন হয়, কীভাবে চিনবেন ও বাঁচবেন, আর কুরআন-সুন্নাহর পদ্ধতিতে কীভাবে রুকইয়াহ করবেন: শান্ত ও বিস্তারিত নির্দেশনা।লেখাবাড়িতে জিনের সমস্যা হলেবাড়িতে অস্বাভাবিক আওয়াজ, ছায়া বা জিনিস সরে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে কী করবেন: কারণ, পাঁচটি শরীয়তসম্মত পদ্ধতি ও পরে যা মেনে চলবেন।লেখাজাদু: লক্ষণ ও সাধারণ রুকইয়াহজাদুর বাস্তবতা, ধরন ও লক্ষণ, জাদুকর কবিরাজ চেনার উপায়, তাবিজ ও জাদুর জিনিস নষ্টের নিয়ম এবং জাদুর সাধারণ রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন।লেখাবিভিন্ন ধরনের জাদুর রুকইয়াহবিয়ে আটকানো, বিচ্ছেদ, বশ করা, পাগল বানানো, বান মারা, ইস্তিহাযা, সহবাসে অক্ষমতা ও গর্ভপাতের জাদু: প্রতিটির লক্ষণ ও দিনভিত্তিক প্রেসক্রিপশন।লেখাওয়াসওয়াসা রোগ: মুক্তির উপায়ওযু-নামায নিয়ে সন্দেহ, ঈমান নিয়ে অবাঞ্ছিত চিন্তা বা কুমন্ত্রণা? পাত্তা না দেওয়ার কৌশল, মাসনূন দোয়া, রুকইয়াহ ও কখন ডাক্তার দেখাবেন।লেখাশিশুদের রুকইয়াহশিশুর রুকইয়াহ সহজ: কোলে নিয়ে মাথায় হাত রেখে মাসনূন দোয়া ও তিন কুল। তাবিজ-টিপ ছাড়া সুরক্ষা, কখন বদনজর, আর যা কখনো করবেন না।লেখাআল-আশফিয়া: ৭ দিনের রুকইয়াহ ডিটক্সপানি, অলিভ অয়েল, মধু ও কালোজিরায় রুকইয়াহ পড়ে সাত দিনের পূর্ণ রুটিন: উপকরণ, প্রস্তুতি, রাত-সকালের নিয়ম ও সতর্কতা।লেখাসার্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রামসমস্যা কয়েক রকম, বুঝতে পারছেন না কোন রুকইয়াহ লাগবে? প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহ ও প্রতি মাসের একটি সাধারণ রুকইয়াহ রুটিন।লেখাজাদু ও জিন থেকে হেফাযতের মাসনূন আমলসকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের আগে ও দিনের বিভিন্ন সময়ের সুন্নাহসম্মত আমল: কোনটা কখন, কতবার পড়বেন, জাদু, জিন ও বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য।লেখারুকইয়াহর আয়াতের তালিকাসাধারণ রুকইয়াহর ২০টি আয়াত, আয়াতে শিফা, আয়াতুল হারক, আর জাদু, জিন, বদনজর, ওয়াসওয়াসা ও অসুস্থতার জন্য আলাদা আয়াত: কীভাবে পড়বেন সহ।লেখা