duabd

লেখা

বিভিন্ন ধরনের জাদুর রুকইয়াহ

বিয়ে আটকানো, বিচ্ছেদ, বশ করা, পাগল বানানো, বান মারা, ইস্তিহাযা, সহবাসে অক্ষমতা ও গর্ভপাতের জাদু: প্রতিটির লক্ষণ ও দিনভিত্তিক প্রেসক্রিপশন।

এই লেখায় নির্দিষ্ট কিছু জাদুর লক্ষণ ও প্রতিকার আলাদা করে দেওয়া হলো। শুরুর আগে তিনটি কথা মনে রাখুন:

  1. প্রতিটির ভিত্তি একই। প্রথমে জাদু: লক্ষণ ও সাধারণ রুকইয়াহ লেখার নিয়মে রুকইয়াহ করুন (নিজে, অথবা রাক্বী রোগীর ওপর)। এরপর নিচের নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন মানুন। যেখানে লেখা আছে ‘জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ’, সেখানে ওই লেখার প্রেসক্রিপশনের ৩ থেকে ১০ নম্বর পয়েন্ট (তিলাওয়াত, হারাম বর্জন, নামায, মাসনূন আমল, তাহলীল, ঘুমের আগের আমল, পবিত্রতা, ইস্তিগফার ও দোয়া) বোঝানো হয়েছে।
  2. লক্ষণ মিললেই জাদু নয়। প্রায় প্রতিটি লক্ষণের সাধারণ শারীরিক বা মানসিক কারণও থাকতে পারে। বিশেষ করে অসুস্থতা, স্রাবের সমস্যা, দাম্পত্য সমস্যা ও গর্ভপাতের ক্ষেত্রে আগে ডাক্তার দেখান, এবং রুকইয়াহর পাশাপাশি চিকিৎসা চালিয়ে যান। ডাক্তারের ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
  3. সময় লাগে। প্রথম কয়েকদিন অনেকের কষ্ট বাড়ে; থামবেন না। বেশি কষ্টে রুকইয়াহর পানি দিয়ে গোসল করে নিন। দেখুন: রুকইয়াহর পর প্রতিক্রিয়া, দেরি ও শেষ বোঝা।

নিচে ‘জাদুর আয়াত’ বলতে বোঝানো হয়েছে: জাদু নষ্টের আয়াত: সূরা আ‘রাফ ৭:১১৭–১২২, জাদু বাতিলের আয়াত: সূরা ইউনুস ১০:৮১–৮২ ও জাদুকরের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ার আয়াত: সূরা ত্বহা ২০:৬৯।

১. বিয়ে আটকে রাখা বা ভেঙে দেওয়ার জাদু

প্রস্তাব আসে, সব ঠিক থাকলেও পছন্দ হয় না; কথা পাকা হওয়ার পর কোনো পক্ষ অকারণে বেঁকে বসে; যোগ্য মানুষের প্রস্তাবই আসে না; কিংবা কিছুদূর এগিয়ে অপরপক্ষ হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বারবার এমন হলে এই জাদুর কথা ভাবা যায়।

লক্ষণ

  • মাথাব্যথা, ওষুধে তেমন কাজ হয় না।
  • প্রায়ই মানসিক অশান্তি, বিশেষত বিকেল থেকে মাঝরাত।
  • অল্পতেই রেগে যাওয়া।
  • ঘুমে শান্তি নেই, ঘুম থেকে উঠে অনেকক্ষণ কষ্ট।
  • প্রায়ই পেটব্যথা; মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা।
  • বিয়ের কথা উঠলেই অসুস্থ হয়ে পড়া।
  • প্রস্তাবদাতাকে অকারণে খারাপ লাগা, অনর্থক সন্দেহ।
  • কোনো কারণ ছাড়াই বিয়েতে একদম আগ্রহ না থাকা।
  • এ জাদুতে প্রায়ই জিন ব্যবহার হয়, তাই জিনের লক্ষণও মিলতে পারে।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

জাদুর আয়াত এবং সূরা ফাতিহা, ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।

  1. এই পানি প্রতিদিন দুই বেলা পান করুন।
  2. প্রতিদিন গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন। পানি ও গোসলের কাজ ৭ দিন; পানি ফুরালে আবার পড়ে নিন।
  3. এক মাস প্রতিদিন অন্তত ২ ঘণ্টা রুকইয়াহ শুনুন: আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ ১ ঘণ্টা, ইখলাস-ফালাক-নাসের রুকইয়াহ ১ ঘণ্টা। জিনের সমস্যা বেশি টের পেলে সাথে সূরা ইয়াসীন, সাফফাত ও দুখানের রুকইয়াহ অন্তত একবার। যতটুকু পারেন নিজেও তিলাওয়াত করুন।
  4. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

এক মাস পর অবস্থা দেখুন; দরকার হলে আবার রুকইয়াহ করে একই প্রেসক্রিপশন।

লক্ষণীয়

  • এক মাস পরও সমস্যা থাকলে ভালোভাবে আবার রুকইয়াহ করুন; চাইলে মাসে একবার ৭ দিনের ডিটক্স।
  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহেই উন্নতি টের পাওয়া যায়, তবু পুরো দূর না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।
  • শুধু রুকইয়াহ করে বসে থাকবেন না: পাত্র-পাত্রী খুঁজুন, চেষ্টা চালিয়ে যান, উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া করুন।
  • বিবাহিত কারও মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে তা বিচ্ছেদের জাদু হিসেবে কাজ করতে পারে; অবহেলা না করে নিচের দ্বিতীয় অংশ দেখুন।
  • অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কারও ক্ষেত্রে আগে এক সপ্তাহ বদনজরের রুকইয়াহ, তারপর এই রুকইয়াহ ও ডিটক্স মিলিয়ে প্রায় দুই মাস ধৈর্য ধরার পর সমাধান এসেছে।

২. সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটানোর জাদু

সব ঠিক থাকার পর হঠাৎ একজন আরেকজনকে সহ্য করতে না পারা। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু বা ব্যবসার অংশীদারের মাঝে ফাটল ধরাতে এ জাদু করা হয়। কুরআনেই এর উল্লেখ আছে: আল-বাকারা ২:১০২।

লক্ষণ (স্বামী-স্ত্রীর উদাহরণে; অন্য সম্পর্কে মিলিয়ে নিন)

  • স্বামী বাইরে থাকলে সব ঠিক, ঘরে ঢুকলেই মেজাজ খারাপ।
  • অতিরিক্ত সন্দেহ।
  • ছোট বিষয়েও ছাড় না দেওয়া, অল্পতেই ঝগড়া।
  • সঙ্গীর চেহারা, সাজগোজ, ভালো কথা বা আচরণও বিরক্তিকর লাগা।
  • সঙ্গীর ব্যবহৃত জিনিস বা বসার জায়গাও অপছন্দ।
  • অন্যদের সাথে স্বাভাবিক, কিন্তু দুজন কথা বললেই ঝামেলা।

সব না মিললেও অন্তত ২–৩টি মেলার কথা। নিশ্চিত হতে রুকইয়াহ করে দেখুন।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, তবে এখানে আল-বাকারা ২:১০২ বেশি করে পড়ুন। এরপর একটি বোতলে পানি নিয়ে আল-বাকারা ২:১০২, জাদুর আয়াত এবং সূরা ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিন।

  1. এই পানি প্রতিদিন দুই বেলা পান করুন।
  2. প্রতিদিন গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন; প্রতিদিন না পারলে অন্তত ২–৩ দিনে একবার।
  3. সূরা ইয়াসীন, সাফফাত, দুখান ও জিন (অথবা ৮ সূরার রুকইয়াহ) প্রতিদিন তিনবার পড়ুন বা শুনুন; সময় কম থাকলে অন্তত একবার।
  4. আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ (বারবার আয়াতুল কুরসী পড়া অডিও) প্রতিদিন আধঘণ্টা বা বেশি শুনুন।
  5. প্রতিদিন ৭০–১০০ বার ইস্তিগফার এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ; বেশি হলে আরও ভালো।
  6. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

এভাবে এক মাস। এরপর অবস্থা দেখে প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ ও একই প্রেসক্রিপশন।

লক্ষণীয়

  • পুরো ভালো হতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। অনেকের প্রথম ১০–১৫ দিন সমস্যা বাড়ে, তারপর কমে আসে। এ সময় কোনোভাবেই থামবেন না।
  • সাময়িক উন্নতি দেখে রুকইয়াহ ও মাসনূন আমল ছেড়ে দিলে সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
  • দুজনই আক্রান্ত অথচ একজন চিকিৎসা করতে পারছেন: হয় ‘আমাদের পরিবারে বিচ্ছেদের জাদুর জন্য’ নিয়তে রুকইয়াহ করুন (সময় বেশি লাগতে পারে), নয়তো আগে নিজের নিয়তে, নিজের লক্ষণ দূর হলে সঙ্গীর নিয়তে হুবহু একই কাজ, তিলাওয়াত একটু বেশি শুনে।
  • সবচেয়ে বড় কথা, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন সব জাদু নষ্ট হয় এবং পরিবারে আগের ভালোবাসা ফিরে আসে।

৩. আসক্ত বা বশ করার জাদু

কাউকে নিজের প্রতি অন্ধভাবে আসক্ত বা অনুগত বানানোর জাদু। সাধারণত কাছের মানুষরাই এটা করায়, আর ভণ্ড কবিরাজরা একে ‘তদবির’ বা ‘ওযীফা’ নামে বিক্রি করে, ফলে অনেকে একে ইসলামী আমল ভেবে ভুল করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, শিরকি মন্ত্র, তাবিজ-কবচ এবং ‘তিওয়ালা’ (বশ করার জাদু) শিরক। (আবু দাউদ ৩৮৮৩) অর্থাৎ এটা শুধু বড় গুনাহ নয়, ঈমান-বিধ্বংসী কাজ।

লক্ষণ

  • সারাক্ষণ একজনের চিন্তা, অন্য কিছুতে মন না বসা।
  • সবসময় তাকে দেখতে চাওয়া, দূরে থাকতে না পারা, পিছু পিছু ঘোরা।
  • দাম্পত্য চাহিদায় অস্বাভাবিক অধৈর্য।
  • অকারণে কারও প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ, বা যাকে অপছন্দ করতেন তার প্রতি হঠাৎ তীব্র টান।
  • বাছবিচার ছাড়াই কারও কথা অন্ধভাবে মানা; ভুল বুঝেও নিজেকে বাধ্য মনে হওয়া।

এ জাদুতে উল্টো ফলও খুব হয়: আসক্তির বদলে বিরক্তি বা ঘৃণা, হঠাৎ তালাক, মা-বাবা-ভাই-বোনের প্রতি বিদ্বেষ, পাগলের মতো আচরণ, কিংবা এমন অসুস্থতা যাতে ডাক্তারি চিকিৎসায় তেমন কাজ হয় না।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, সাথে পড়তে পারেন আল-বাকারা ২:১৬৫–১৬৬, ইউসুফ ১২:৩০ ও আত-তাগাবুন ৬৪:১৪–১৬। এরপর একটি বোতলে পানি নিয়ে আয়াতুল কুরসী, জাদুর আয়াত ও আত-তাগাবুন ৬৪:১৪–১৬ পড়ে ফুঁ দিন (চাইলে ওপরের বাকি আয়াতগুলোও)।

  1. তিন সপ্তাহ সকাল-বিকাল এই পানি পান করুন; মাঝে মাঝে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন।
  2. প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা রুকইয়াহ শুনুন: কোনো সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা তাগাবুন কয়েকবার। সময় কম থাকলে শুধু সূরা তাগাবুন কয়েকবার পড়ুন বা শুনুন।
  3. জাদু পুরোনো বা প্রকট হলে, কিংবা জিনের সমস্যাও আছে মনে হলে, ‘রুকইয়াহ যিনা’ (অডিও), সূরা ইউসুফ ও সূরা নূর শুনুন, সম্ভব হলে কিছুটা পড়ুন।
  4. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

৩ সপ্তাহ পর অবস্থা দেখুন; দরকার হলে আবার একই প্রেসক্রিপশন। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে, ইন শা আল্লাহ।

লক্ষণীয়

  • পানীয় বা খাবারে মিশিয়ে, কিংবা পথে ঢেলে করা জাদুর ক্ষেত্রে নিজে নিজে রুকইয়াহই সাধারণত যথেষ্ট। ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে করা হলে দোয়া ও রুকইয়াহর সময় জাদু নষ্টের নিয়ত রাখুন।
  • এ জাদু সাধারণত ঘরের বা কাছের মানুষই করে, তাই চিকিৎসার কথা গোপন রাখুন, সুস্থ হওয়ার পরও এ নিয়ে আলোচনা করবেন না।
  • যেসব অনুষ্ঠানে শিরক-বিদআত হয়, সেখানে যাওয়া এবং সেখানকার শিন্নি বা মিষ্টান্ন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • অন্যকে বশ করতে কবিরাজের কাছে যাওয়ার কথা কখনো ভাববেন না। এর পরিণতিতে অনেকের সংসার ভেঙেছে, কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্যও হারিয়েছেন।

৪. পাগল বানানো বা পড়ালেখা নষ্টের জাদু

পড়ালেখা নষ্ট করা আর মস্তিষ্ক বিকৃত করার জন্য মূলত একই জাদু করা হয়, প্রায়ই জিনের সাহায্যে। প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই যত দ্রুত চিকিৎসা, তত ভালো। সম্ভব হলে অন্য কেউ রোগীর রুকইয়াহ করবেন; সাহায্যকারী না পেলে নিজেই শুরু করুন।

লক্ষণ

  • আগে ভালো ছাত্র হলেও হঠাৎ সবকিছুতে ধস; পরীক্ষা এলেই অসুস্থ।
  • কোথাও বেশিক্ষণ স্থির থাকতে না পারা, কাজে ধৈর্য না থাকা।
  • কথা ও কাজে ভুল এবং ওয়াসওয়াসা বেড়ে যাওয়া।
  • পরিচ্ছন্নতায় চরম উদাসীনতা, ময়লা বা ছেঁড়া কাপড় পরতে চাওয়া।
  • চোখের চাহনি অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া।
  • অকারণে হাঁটতে থাকা, হঠাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা যেতে চাওয়া।
  • মাঝে মাঝে একেবারে অস্বাভাবিক আচরণ, বিশেষত বিকেলের পর বা পূর্ণিমা-অমাবস্যার রাতে।
  • রাতের পর রাত নির্ঘুম; অল্প ঘুমেও কেউ তাড়া করছে বা ডাকছে এমন স্বপ্ন; জেগে থেকেও কেউ ডাকছে মনে হওয়া, অথচ অন্যরা কিছু শোনেনি।
  • কেউ কেউ একদম চুপচাপ ও অন্তর্মুখী হয়ে যায়, কাউকে কিছু বলে না।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, সাথে সূরা আল-কলামের শেষ দুই আয়াত বদনজরের আয়াত: সূরা কলামের শেষ দুই আয়াত (ওয়া ইঁইয়াকাদু) পড়তে পারেন। রোগী তীব্র ব্যথায় চিৎকার বা কান্নাকাটি করতে পারে, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন। সেলফ রুকইয়াহর সময়ও কাউকে পাশে রাখুন।

  1. এক থেকে দেড় মাস প্রতিদিন বেশি বেশি রুকইয়াহ শুনুন, বিশেষত ৮ সূরার রুকইয়াহ (ইয়াসীন, সাফফাত, দুখান, জিন, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক, নাস)। সাথে সূরা বাকারা, হিজর, হা-মীম সাজদা, ফাতহ, ক্বাফ, রহমান, মুলক ও আ‘লা। সব মিলিয়ে দৈনিক কমপক্ষে ৩–৪ ঘণ্টা।
  2. সূরা ফাতিহা, জাদুর আয়াত, ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। প্রতিদিন দুই বেলা পান করুন এবং গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন।
  3. একই আয়াত পড়ে অলিভ অয়েলে ফুঁ দিন; প্রতিদিন ঘুমের আগে পুরো মাথায় লাগান (মেয়েদের সব চুলে লাগানো জরুরি নয়)।

এক থেকে দেড় মাস পর অবস্থা জেনে প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ ও একই পরামর্শ।

লক্ষণীয়

  • মস্তিষ্কের স্থায়ী কোনো ক্ষতি বা মানসিক রোগ ধরা পড়লে অবশ্যই রুকইয়াহর পাশাপাশি দ্বীনদার ডাক্তার ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিন। চাইলে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে মাথায় হিজামা করাতে পারেন।
  • লেখক এই রুকইয়াহ চলাকালে নিজে থেকে ব্যথানাশক খেতে নিষেধ করেছেন। তবে ডাক্তারের দেওয়া চলমান ওষুধ বন্ধ করবেন না; কোনো ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • রুকইয়াহ শুনতে কষ্ট হয়, মাথাব্যথা হয়; সবর করে চালিয়ে যান। বেশি খারাপ লাগলে রুকইয়াহর পানিতে গোসল করুন বা মাথায় পানি ঢালুন।
  • শোনার সময় রোগী অচেতন হয়ে জিন কথা বললে শোনানো থামাবেন না; জিনকে চলে যেতে বলুন।
  • রোগী শুনতে না চাইলে কৌশলে শোনান; সমস্যা কমলে নিজেই শুনবে।
  • হঠাৎ উত্তেজিত হলে পরিবার ভয় না পেয়ে তাকে সামলাবেন: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও আয়াতে শিফা পড়ে ফুঁ দেবেন (মাহরাম হলে মাথায় হাত রেখে), চোখে-মুখে রুকইয়াহর পানি ছিটাবেন, মাথা ধুয়ে দেবেন বা ওযু করিয়ে দেবেন।
  • পুরো সুস্থ হতে ৩–৪ মাস লাগতে পারে। সুস্থ হওয়ার পরও অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ রুকইয়াহ শুনুন ও বেশি দোয়া করুন।

৫. অসুস্থ বানানো বা বান মারার জাদু

এই জাদুতে মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে; চরম ক্ষেত্রে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেও করা হয়, যাকে সমাজে ‘বান মারা’ বলে। তবে মনে রাখুন, জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে; তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো জাদু কিছুই করতে পারে না।

লক্ষণ

  • কোনো অঙ্গে সবসময় ব্যথা; কোনো অঙ্গ বা পুরো শরীর অচল হয়ে যাওয়া, কখনো চলে কখনো চলে না।
  • মাঝে মাঝে কাঁপুনি বা খিঁচুনি দিয়ে অজ্ঞান হওয়া।
  • স্বাদ বা গন্ধের মতো কোনো ইন্দ্রিয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।
  • খুব অসুস্থ অথচ পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়ে না।
  • খেতে না পারা, বা খেলেও দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে শরীর ভেঙে পড়া।

কীভাবে বুঝবেন: জাদু বা জিনের কারণে হলে সাধারণত ডাক্তারি চিকিৎসায় তেমন কাজ হয় না, পরীক্ষায়ও কিছু আসে না। তবে দীর্ঘদিন জাদুতে ভুগলে সত্যিকারের রোগও তৈরি হয়, তখন পরীক্ষায় ধরা পড়ে। দ্বিতীয় উপায় রুকইয়াহ করে দেখা। প্রতিক্রিয়া না হলে, বরং আরাম লাগলে, আরও কয়েকবার করে দেখুন; তবুও কিছু না হলে জাদু নেই, তখন পুরো মনোযোগ ডাক্তারি চিকিৎসায় দিন।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, আয়াতে শিফাগুলো একটু বেশিবার পড়ুন। সমস্যা জটিল হলে শুরুতে তিন দিন বরই পাতার গোসল: ৭টি বরই পাতা বেটে পানিতে গুলিয়ে আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক, নাস ও জাদুর আয়াত পড়ে ফুঁ দিন; তিন চুমুক পান করে বাকিটা দিয়ে গোসল করুন।

এরপর পানি, কালোজিরা, কালোজিরার তেল (না পেলে অলিভ অয়েল) ও মধু সামনে রেখে পড়ুন, আর মাঝে মাঝে সবগুলোতে ফুঁ দিন:

  1. সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক, নাস ও জাদুর আয়াত: প্রতিটি তিনবার।
  2. আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত: সাতবার।
  3. বাকি আয়াতে শিফা তিনবার করে: আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত।
  4. দুটি দোয়া তিনবার করে: আল্লাহুম্মা রব্বান নাস: অসুস্থের জন্য রুকইয়াহ এবং জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি আরকীক।
  5. জয়েন্ট বা হাড়ে ব্যথা থাকলে সাধারণ অসুস্থতার লেখায় দেওয়া হাড়ক্ষয়ের আয়াতগুলোও পড়ুন।

নির্দেশনা:

  1. প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক চিমটি কালোজিরা খান; তারপর এক চা-চামচ মধু অল্প রুকইয়াহর পানিতে গুলিয়ে পান করুন।
  2. গোসলের পানিতে কিছুটা রুকইয়াহর পানি মিশিয়ে গোসল করুন।
  3. প্রতিদিন সকালে ও রাতে কপালে ও ব্যথার জায়গায় তেল মালিশ করুন। গোসল বাদ গেলেও এটা যেন বাদ না যায়।
  4. প্রতিদিন আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ আধঘণ্টা, সূরা ইয়াসীন-সাফফাত-দুখান-জিনের রুকইয়াহ একবার, আর সূরা বায়্যিনাহ থেকে নাস পর্যন্ত তিনবার শুনুন; পারলে আরও বেশি। নিজেও যতক্ষণ পারেন রুকইয়াহর আয়াত বা সূরা বাকারা পড়ুন।
  5. খাওয়ার আগে অবশ্যই বিসমিল্লাহ।
  6. সুস্থতার জন্য অবিরত দোয়া।
  7. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

প্রতি মাসে অবস্থা দেখে প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ; পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।

লক্ষণীয়

  • শরীরের যে ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, তার জন্য ডাক্তারের চিকিৎসা অবশ্যই নিন; রুকইয়াহ তার পাশাপাশি।
  • সমস্যা বেশি হলে প্রথমে টানা তিন দিন, তারপর প্রতি সপ্তাহে এক-দুই দিন বরই পাতার গোসল।
  • অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে হিজামা করানো যায়। লেখক উল্লেখ করেছেন, জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজামা করিয়েছিলেন।
  • সুস্থতার নিয়তে অল্প হলেও নিয়মিত সাদাকাহ করুন; একটি বর্ণনায় সাদাকাহ দিয়ে রোগের চিকিৎসা করতে বলা হয়েছে। (বাইহাকী)
  • বইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা: অনেক কবিরাজ দেখিয়েও যা হয়নি, তাওবাহ, ইস্তিগফার, তাহাজ্জুদে দোয়া আর ধৈর্যের রুকইয়াহয় তা হয়েছে।

৬. ইস্তিহাযা বা অনিয়মিত স্রাবের সমস্যা

লেখক এখানে ফিকহের প্রসিদ্ধ একটি মত অনুযায়ী মাসিকের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৩ ও সর্বোচ্চ ১০ দিন ধরেছেন; এর বাইরে রক্ত গেলে তা ইস্তিহাযা। রাসূলুল্লাহ ﷺ হামনা বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বলেছিলেন, ইস্তিহাযা শয়তানের একটি আঘাত। (তিরমিযী ১২৮) তাই নির্দিষ্ট জাদু, জিন দিয়ে করা অন্য জাদু, জিনের আসর বা শুধু জিনের নজর থেকেও এমন হতে পারে। অন্য সমস্যার রুকইয়াহর পরও এটা না সারলে এই রুকইয়াহ করুন। শারীরিক কারণে হলেও এই রুকইয়াহ করা যায়, আল্লাহ চাইলে উপকার হবে।

লক্ষণ

  • কয়েক মাস ধরে মাসিক ৩ দিনের কম বা ১০ দিনের বেশি।
  • প্রায় সবসময় স্রাব; অথবা বয়স না হতেই একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • সাদাস্রাব (লিউকোরিয়া); অতিরিক্ত রক্তস্রাব; স্রাবের সময় তীব্র ব্যথা।
  • ঘুম না হওয়া, ঘনঘন বোবায় ধরা বা খারাপ স্বপ্ন।
  • কোমর ও তলপেটসহ শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা, প্রায়ই মাথাব্যথা।
  • লেখকের মতে পুরুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা প্রস্রাবের সংক্রমণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন। এরপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, জাদুর আয়াত, ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে পানিতে ফুঁ দিন (সম্ভব হলে মধুতেও)। তারপর ছয়টি আয়াতে শিফা তিনবার করে পড়ে ফুঁ দিন: আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত, আয়াতুশ শিফা: আরোগ্যের ছয় আয়াত।

  1. এই পানি প্রতিদিন দুই বেলা পান করুন; মধু থাকলে এক চামচ মিশিয়ে নিন।
  2. প্রতিদিন বা একদিন পরপর গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন।
  3. কোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ একবার, অথবা আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ আধঘণ্টা শুনুন। ‘রুকইয়াহ যিনা’ও এতে বেশ উপকারী।
  4. তিন-চার সপ্তাহেও পুরো না সারলে ৭ দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করুন।
  5. অথবা আল-আনআমের একটি আয়াতাংশ ইস্তিহাযার রুকইয়াহয় লেখার আয়াত: লিকুল্লি নাবাইম মুসতাক্বার (সূরা আন‘আম ৬:৬৭) খাওয়ার উপযোগী হালাল কালি দিয়ে কাগজে বা পাত্রে লিখে পানিতে গুলিয়ে দুই-তিন সপ্তাহ পান করুন। এমন কালি না পেলে ফুল বা ফলের রস কিংবা ভিটামিন সিরাপ দিয়ে লেখা যায়।

এক মাস পর অবস্থা দেখে প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ।

লক্ষণীয়

  • কয়েক সপ্তাহ রুকইয়াহয় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে অবশ্যই একজন দ্বীনদার গাইনি ডাক্তার দেখান। হঠাৎ ওজন বাড়া-কমা, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, হরমোনের সমস্যার মতো শারীরিক কারণও থাকতে পারে; দুশ্চিন্তা না করে আসল কারণ খুঁজুন।
  • আয়াত লিখে ধুয়ে পান করানো জায়েয বলে ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন, এবং ইমাম আহমাদসহ অনেকে এ মত দিয়েছেন (মাজমূউল ফাতাওয়া ১০/৩৭)। এটা গলায় তাবিজ ঝোলানো নয়; লেখা পানিসহ পান করে ফেলা হয়।
  • অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে হিজামা করানো এ সমস্যায় খুব উপকারী বলে লেখক জানিয়েছেন।
  • একটু ভালো হলেই থামবেন না; টানা তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস চালিয়ে যান, নইলে সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
  • ইস্তিহাযার সময় নামায-পবিত্রতার মাসআলা নির্ভরযোগ্য আলিম বা বই থেকে জেনে নিন।

৭. দাম্পত্য মিলনে অক্ষম করার জাদু

স্বামী বা স্ত্রী মিলনে সক্ষম না হলেই জাদু ধরে নেওয়া যাবে না। কোনো রোগ বা শারীরিক কারণ না থাকা সত্ত্বেও এমন হলে তখন জাদুর আশঙ্কা করা যায়। এ জাদুর বিশেষত্ব হলো, অন্য সময় সব স্বাভাবিক থাকে, শুধু সঙ্গীর কাছে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়; শয়তান মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এমনটা ঘটায়।

লক্ষণ

  • বিয়ের আগে সুস্থ থাকলেও বিয়ের পর ধীরে ধীরে সক্ষমতা হারানো, বা পুরো সুস্থ থেকেও হঠাৎ অক্ষম হয়ে পড়া।
  • মিলনের ঠিক আগে বা সময় অনুভূতি ও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা; একাধিক স্ত্রী থাকলে নির্দিষ্ট একজনের ক্ষেত্রেই এমন হওয়া।
  • স্ত্রীর ক্ষেত্রে: মিলনের সময় অনুভূতিহীন হয়ে পড়া, অনিচ্ছা সত্ত্বেও শরীর আড়ষ্ট হয়ে স্বামীকে বাধা দেওয়া, কিংবা মিলন সফল হতে না পারার মতো শারীরিক বাধা অনুভূত হওয়া।
  • নবদম্পতির মাঝে স্ত্রীর ব্যাপারে অমূলক সন্দেহ তৈরি হওয়া, যা জাদু কেটে গেলে আর থাকে না।
  • দুজনের ক্ষেত্রেই জিনের কিছু লক্ষণ মিলতে পারে।

মিলনের সময় বা অন্য সময় অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হলে দেরি না করে গাইনি ডাক্তার দেখান; বই নিজেই সতর্ক করেছে, এটা জরায়ুর গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, সাথে জাদুর প্রভাব ধূলিকণা করে দেওয়ার আয়াত: সূরা ফুরকান ২৫:২৩ কয়েকবার পড়তে পারেন; অন্য জাদুতেও আয়াতটি উপকারী। এরপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, জাদুর আয়াত ও আল-ফুরকান ২৫:২৩ তিনবার করে, তারপর সূরা আলাম নাশরাহ, ইখলাস, ফালাক ও নাস সাতবার করে পড়ুন; মাঝে মাঝে পানিতে ফুঁ দিন।

  1. দুই সপ্তাহ প্রতিদিন দুই বেলা এই পানি পান করুন এবং গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন।
  2. প্রতিদিন ইখলাস-ফালাক-নাসের রুকইয়াহ আধঘণ্টা, কোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ একবার এবং সূরা আত-তারিক অন্তত একবার শুনুন।
  3. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে উন্নতির আশা করা যায়, তবে জিনের সমস্যা থাকলে দেরি হতে পারে। এক মাস পর আবার রুকইয়াহ করে দেখুন, প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ান।

লক্ষণীয়

  • চাইলে শুরুতে তিন দিন বরই পাতার গোসল বা ৭ দিনের ডিটক্স করুন, সাথে শোনা ও বাকি পরামর্শ ঠিকমতো চালিয়ে যান। বরই পাতা না পেলে কর্পূর গাছের পাতা বেটে আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল পড়ে একইভাবে ব্যবহার করা যায়।
  • জাদুর প্রভাবে স্বাভাবিক সক্ষমতাও কমে যেতে পারে, আবার জাদু ছাড়াও শারীরিক কারণে দুর্বলতা হয়। দুই ক্ষেত্রেই দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • শারীরিক দুর্বলতায় বইয়ের একটি পদ্ধতি: ১ কেজি খাঁটি মধু ও ২০০ গ্রাম রয়েল জেলির মিশ্রণের ওপর সূরা ফাতিহা, আলাম নাশরাহ, ইখলাস, ফালাক ও নাস সাতবার করে পড়ুন। সকালে খালি পেটে ৩ চামচ, দুপুর ও রাতে খাবারের পর ১ চামচ করে খান; এক-দুই মাস, প্রয়োজনে ফ্রিজে রেখে। ডায়াবেটিস বা অ্যালার্জি থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • আগে কবিরাজের কাছে গিয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করে তারপর রুকইয়াহ শুরু করুন।
  • সুস্থ হওয়ার পরও প্রতিদিনের মাসনূন যিকির ও ফরজ-ওয়াজিব আমল ছাড়বেন না, আর মিলনের আগের দোয়াটি স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে কখনো ভুলবেন না।

৮. গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জাদু

কারও যেন সন্তান না হয়, বা হলেও জন্মের আগেই নষ্ট হয়ে যায়, এই উদ্দেশ্যে স্বামী, স্ত্রী বা দুজনের ওপর এ জাদু করা হয়। পুরুষ আক্রান্ত হলে সন্তান ধারণে সমস্যা হয়; নারী আক্রান্ত হলে গর্ভ এলেও অসময়ে নষ্ট হয়ে যায়। বারবার গর্ভপাত হচ্ছে অথচ ডাক্তার সন্তোষজনক কারণ পাচ্ছেন না, কিংবা দুজনেরই কোনো সমস্যা নেই অথচ সন্তান হচ্ছে না, তখন জাদু বা জিনের সমস্যা আছে কি না রুকইয়াহ করে যাচাই করা যায়।

লক্ষণ

  • মানসিক অশান্তি, বিশেষত বিকেল থেকে মধ্যরাত।
  • বুক ভারী বা শক্ত লাগা।
  • সহজে সব ভুলে যাওয়া।
  • মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা।
  • ঘুমে অস্থিরতা, ভয়ের স্বপ্ন, হ্যালুসিনেশন বেড়ে যাওয়া।
  • জাদুর সাধারণ লক্ষণ ও জিনের কিছু লক্ষণও মিলতে পারে।

রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন

সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন, সাথে সন্তান আল্লাহর দান: সূরা শূরা ৪২:৪৯–৫০ পড়তে পারেন। এরপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ রুকু (২:২৮৪–২৮৬), আলে ইমরানের শেষ রুকু (৩:১৯০–২০০) এবং সূরা ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ুন।

  1. এগুলো পড়ে অলিভ অয়েল বা কালোজিরার তেলে ফুঁ দিন; প্রতিদিন ঘুমের আগে বুকে, কপালে ও মেরুদণ্ডে মালিশ করুন।
  2. একই আয়াত পড়ে খাঁটি মধুতে ফুঁ দিন; প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ খান।
  3. প্রতিদিন সকালে সূরা সাফফাত, রাতে সূরা মুলক ও মাআরিজ পড়ুন, না পারলে শুনুন।
  4. প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা মারইয়াম একবার শুনুন; শরীরে ব্যথা বেশি হলে সাথে ৮ সূরার রুকইয়াহ।
  5. গর্ভাবস্থা ছাড়া অন্য সময়ে একই আয়াত পড়া পানি প্রতিদিন পান ও গোসলে ব্যবহার করতে পারেন।
  6. প্রতিদিন অন্তত ৭০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ, বেশি হলে আরও ভালো।
  7. মিলনের আগে দোয়া: স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে।
  8. জাদুর কমন রুকইয়াহর বাকি পরামর্শ।

এক মাস পর অবস্থা দেখে প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ, একই বা সামান্য পরিবর্তিত প্রেসক্রিপশন।

লক্ষণীয়

  • গর্ভাবস্থায় রুকইয়াহ শোনা, রুকইয়াহর পানি পান ও সেই পানিতে গোসল লেখক কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, তাই তখন এগুলো না করাই ভালো। বইয়ের একটি অভিজ্ঞতায় এ সময় শুধু সকালে সূরা ইয়াসীন ও রাতে সূরা মুলক পড়া, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন আমল, ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু এবং মা ও সন্তানের জন্য বেশি বেশি দোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
  • সারতে ৩–৪ মাস বা বেশি লাগতে পারে। কষ্ট হলেও পুরোপুরি বাদ দেবেন না; ভালো লাগার পরও অন্তত এক মাস চালিয়ে যান। মানসিকভাবে পাশে থাকার কেউ থাকা জরুরি; স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সাহায্য করুন।
  • পরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা পড়লে রুকইয়াহর পাশাপাশি সেই চিকিৎসা অবশ্যই চালিয়ে যান।
  • জাদু বা শারীরিক কারণ ছাড়াও সন্তান না হতে পারে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা দেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র, যাকে ইচ্ছা দুটোই, আর যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন: আশ-শূরা ৪২:৪৯–৫০। তখন করণীয় ইস্তিগফার, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থেকে সবর এবং নেক সন্তানের দোয়া চালিয়ে যাওয়া।
  • অনর্থক মানত থেকে বিরত থাকুন; মানত তাকদীর বদলায় না।

৯. অন্যান্য জাদু

লক্ষণ

কোনো ভেল্কিবাজ চোখের সামনে জাদু দেখাচ্ছে, কিংবা কোনো কবিরাজের ওপর শয়তান ভর করে তাবিজ লিখছে। আর অনেকে মনে করেন, জাদু দিয়ে ব্যবসায় লোকসান, জমি বিক্রি আটকে রাখা, চাকরিতে উন্নতি থামানো বা বারবার ইন্টারভিউতে ব্যর্থ করানো হচ্ছে।

রুকইয়াহ ও করণীয়

  1. তাৎক্ষণিক ভেল্কি বা কবিরাজের ওপর শয়তানের ভর দেখলে সাথে সাথে আযান দিন; শয়তান পালায়, জাদুর আর কিছু থাকে না, ইন শা আল্লাহ। সাথে আউযুবিল্লাহ ও আয়াতুল কুরসী পড়ুন।
  2. ব্যবসা বা চাকরির বাধায় প্রথমে নিজের জন্য বদনজরের রুকইয়াহ করুন। চাইলে বদনজরের নিয়মে রুকইয়াহর পানি প্রতিষ্ঠান বা জায়গায় ছিটিয়ে দিন।
  3. তাহাজ্জুদের পর মুক্তির জন্য দোয়া করুন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন; ইস্তিগফারে রিযিক বাড়ে ও বিপদ কাটে: নূহ ৭১:১০–১২।

লক্ষণীয়

জাদু দিয়ে ব্যবসা, জমি বিক্রি বা চাকরি আটকে রাখা যায়, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ লেখক পাননি। তাঁর অভিজ্ঞতায় এগুলো সাধারণত বদনজরের কারণে হয়। তাই কারও প্রতি সন্দেহ বা অভিযোগ না করে নিজের আমল, চেষ্টা ও দোয়ায় মন দিন।

যে ধরনের জাদুই হোক, কবিরাজ, তান্ত্রিক বা তাবিজওয়ালার কাছে যাবেন না, এবং কে জাদু করেছে তা খুঁজতে যাবেন না। কুরআন, সুন্নাহ, সবর আর ডাক্তারি চিকিৎসা: এই পথেই নিরাপদ মুক্তি, ইন শা আল্লাহ। ভবিষ্যতে হেফাযতের জন্য দেখুন: জাদু ও জিন থেকে হেফাযতের মাসনূন আমল।

সূত্র: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুকইয়াহ (পৃ. ১৬৫–২০২), এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি (ruqyahbd.org)। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি পড়ুন।

আরও পড়ুন

রুকইয়াহ কী?রুকইয়াহ শারইয়্যাহর অর্থ, জায়িয হওয়ার তিন শর্ত, রুকইয়ার তিন স্তর, জরুরি পরিভাষা এবং কেন প্রত্যেক পরিবারে কারো না কারো রুকইয়াহ জানা দরকার।লেখাসুন্নাহসম্মত রুকইয়াহর ১০টি পদ্ধতিশুধু তিলাওয়াত, হাত রেখে পড়া, ফুঁ, হালকা থুতু, হাত বুলানো, পানি-লবণ, মাটি ও টানা কয়েক দিন: হাদীসে আসা রুকইয়ার দশটি পদ্ধতি ও প্রয়োগের নিয়ম।লেখারুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদানরুকইয়ার আগে ঘর ও মন প্রস্তুত করা, রুকইয়ার পানি, যমযম, মধু, কালোজিরা, বরই পাতা, রুকইয়ার গোসলের নিয়ম এবং রুকইয়ার অডিও নিয়ে জরুরি প্রশ্নোত্তর।লেখানিজে রুকইয়াহ, নাকি রাক্বীর কাছে?সত্তর হাজারের হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা, কখন নিজে আর কখন অন্যকে দিয়ে রুকইয়াহ করাবেন, ভালো রাক্বীর বৈশিষ্ট্য এবং জাদুকর কবিরাজ চেনার লক্ষণ।লেখারুকইয়াহর পর প্রতিক্রিয়া, দেরি ও শেষ বোঝারুকইয়ার পর ক্লান্তি, ব্যথা বা বমি হলে কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন, সুস্থ হতে কেন দেরি হয় এবং কীভাবে বুঝবেন রুকইয়াহ সত্যিই শেষ।লেখাবদনজর: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবদনজর সত্য, তবে এর চিকিৎসা সহজ। লক্ষণ, প্রতিদিনের সুরক্ষা আর ওযুর পানি, দোয়া ও রুকইয়ার গোসলসহ চারটি পদ্ধতি ধাপে ধাপে।লেখাজিনের সমস্যা: লক্ষণ ও চিকিৎসাজিনের আসর কেন ও কখন হয়, কীভাবে চিনবেন ও বাঁচবেন, আর কুরআন-সুন্নাহর পদ্ধতিতে কীভাবে রুকইয়াহ করবেন: শান্ত ও বিস্তারিত নির্দেশনা।লেখাবাড়িতে জিনের সমস্যা হলেবাড়িতে অস্বাভাবিক আওয়াজ, ছায়া বা জিনিস সরে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে কী করবেন: কারণ, পাঁচটি শরীয়তসম্মত পদ্ধতি ও পরে যা মেনে চলবেন।লেখাজাদু: লক্ষণ ও সাধারণ রুকইয়াহজাদুর বাস্তবতা, ধরন ও লক্ষণ, জাদুকর কবিরাজ চেনার উপায়, তাবিজ ও জাদুর জিনিস নষ্টের নিয়ম এবং জাদুর সাধারণ রুকইয়াহ ও প্রেসক্রিপশন।লেখাওয়াসওয়াসা রোগ: মুক্তির উপায়ওযু-নামায নিয়ে সন্দেহ, ঈমান নিয়ে অবাঞ্ছিত চিন্তা বা কুমন্ত্রণা? পাত্তা না দেওয়ার কৌশল, মাসনূন দোয়া, রুকইয়াহ ও কখন ডাক্তার দেখাবেন।লেখাসাধারণ অসুস্থতায় রুকইয়াহব্যথা, মানসিক চাপ, অনিদ্রা, চোখ, তোতলামি, শ্বাসকষ্ট, হাড়ক্ষয় ও ক্লান্তিতে ডাক্তারের চিকিৎসার পাশাপাশি সুন্নাহসম্মত রুকইয়ার নিয়ম।লেখাশিশুদের রুকইয়াহশিশুর রুকইয়াহ সহজ: কোলে নিয়ে মাথায় হাত রেখে মাসনূন দোয়া ও তিন কুল। তাবিজ-টিপ ছাড়া সুরক্ষা, কখন বদনজর, আর যা কখনো করবেন না।লেখাআল-আশফিয়া: ৭ দিনের রুকইয়াহ ডিটক্সপানি, অলিভ অয়েল, মধু ও কালোজিরায় রুকইয়াহ পড়ে সাত দিনের পূর্ণ রুটিন: উপকরণ, প্রস্তুতি, রাত-সকালের নিয়ম ও সতর্কতা।লেখাসার্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রামসমস্যা কয়েক রকম, বুঝতে পারছেন না কোন রুকইয়াহ লাগবে? প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহ ও প্রতি মাসের একটি সাধারণ রুকইয়াহ রুটিন।লেখাজাদু ও জিন থেকে হেফাযতের মাসনূন আমলসকাল-সন্ধ্যা, ঘুমের আগে ও দিনের বিভিন্ন সময়ের সুন্নাহসম্মত আমল: কোনটা কখন, কতবার পড়বেন, জাদু, জিন ও বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য।লেখারুকইয়াহর আয়াতের তালিকাসাধারণ রুকইয়াহর ২০টি আয়াত, আয়াতে শিফা, আয়াতুল হারক, আর জাদু, জিন, বদনজর, ওয়াসওয়াসা ও অসুস্থতার জন্য আলাদা আয়াত: কীভাবে পড়বেন সহ।লেখা