আল্লাহ কুরআনে মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত রেখেছেন (আল-ইসরা ১৭:৮২)। পুরো কুরআনই রুকইয়াহ হিসেবে পড়া যায়, তবে কিছু আয়াত বিশেষভাবে রুকইয়াহর জন্য পরিচিত। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের “রুকইয়াহ” বইয়ে বিভিন্ন অধ্যায়ে যত আয়াতের তালিকা এসেছে, এই পাতায় সেগুলো এক জায়গায় সাজানো হলো। একই আয়াত একাধিক তালিকায় থাকলে একবার দেওয়া হয়েছে, আর কোন কাজে কোনটি লাগে তা পাশে লেখা আছে। প্রতিটি সূত্রে ক্লিক করলে quran.com-এ আয়াতটি খুলবে।
নতুন হলে প্রথমে “সাধারণ রুকইয়াহর ২০টি আয়াত” দিয়ে শুরু করুন; জাদু, জিন, বদনজর, শারীরিক অসুস্থতা, সব সমস্যাতেই এগুলো পড়া যায়। সমস্যা নির্দিষ্টভাবে বোঝা গেলে সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত আয়াত যোগ করুন।
কীভাবে পড়বেন
তিন স্তরের রুকইয়াহ
- সর্বোত্তম (মাসনূন): যেসব আয়াত ও দোয়া দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ, জিবরাঈল (আ.) বা সাহাবীরা রুকইয়াহ করেছেন (যেমন সূরা ফাতিহা, ফালাক, নাস), যেগুলো সুরক্ষা বা সুস্থতার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ পড়েছেন বা পড়তে বলেছেন (যেমন সূরা বাকারা, আয়াতুল কুরসী), এবং কুরআন-সুন্নাহয় আসা নবীদের দোয়া।
- উত্তম: রোগীর সমস্যার সাথে মিল আছে এমন আয়াত, যেমন জাদুর রোগীর জন্য জাদুর আয়াত, জিনের রোগীর জন্য জিন-শয়তানের আয়াত।
- বৈধ: কুরআনের যেকোনো আয়াত, সহীহ সূত্রের যেকোনো দোয়া, এমনকি শরীয়তের সীমার ভেতরে নিজের ভাষায় দোয়া।
ক্রমানুসারে সব স্তর থেকে পড়া বাধ্যতামূলক নয়। লেখকের অভিজ্ঞতা হলো, শুধু মাসনূন রুকইয়াহগুলো বারবার ও দীর্ঘক্ষণ পড়লে উপকার তুলনামূলক বেশি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। নিচের “সাধারণ রুকইয়াহর আয়াত” প্রথম দুই স্তর মিলিয়ে সাজানো।
পড়ার নিয়ম
- প্রস্তুতি: ওযু করে নিন, ঘর থেকে প্রাণীর ছবি-মূর্তি সরান, সাথে তাবিজ থাকলে খুলে ফেলুন। ইস্তিগফার ও দরূদ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে শুরু করুন। মনে রাখবেন, রুকইয়াহর প্রভাব অনেকটাই মনোযোগী তিলাওয়াতের ওপর নির্ভর করে, আর আরোগ্য দেন আল্লাহ, আয়াত বা পাঠকারী নয়। বিস্তারিত: রুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদান।
- শুরুর তিনটি বাক্য: রুকইয়াহ শুরুর বাক্য: বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও দরূদ, তারপর সন্তানদের হেফাযতের দোয়া, তারপর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়: আউযু বিল্লাহিস সামী‘ইল আলীম … মিন হামযিহী।
- এরপর আয়াতগুলো ক্রমানুসারে পড়ুন। যে অংশগুলো বেশি কার্যকর (বইয়ে আন্ডারলাইন করা), সেগুলো বারবার পুনরাবৃত্তি করুন। তালিকা নিচে আছে।
- কোনো আয়াত বারবার পড়লে বিসমিল্লাহ শুধু প্রথমবার বললেই হবে, প্রতিবার নয়।
- ফুঁ দেওয়া: নিজের বা রোগীর ওপর পড়লে মাঝে মাঝে ফুঁ দিন; পানি, তেল বা মধুতে পড়লে পাত্র মুখের কাছে রেখে পড়ার ফাঁকে ফুঁ দিন। পদ্ধতিগুলো দেখুন সুন্নাহসম্মত রুকইয়াহর ১০টি পদ্ধতি।
- দীর্ঘ আয়াত পড়া কঠিন হলে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, ইখলাস, ফালাক ও নাস বারবার পড়ে দীর্ঘ সময় রুকইয়াহ করুন।
- শেষে বা শুরুতে পাতার শেষে দেওয়া দোয়াগুলো পড়তে পারেন, আর প্রয়োজনে আয়াতে শিফা ও আয়াতুল হারক যোগ করুন।
- অডিও: নিজে পড়াই উত্তম; অডিও সহায়ক মাত্র। পিরিয়ড, তিলাওয়াত শুদ্ধ না হওয়া বা দীর্ঘ সময় রুকইয়াহর দরকার হলে অডিও কাজে আসে। যাচাই না করে ইউটিউব থেকে যেকোনো “রুকইয়াহ” শুনবেন না; গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় শুনবেন না।
অন্যের ওপর রুকইয়াহ করলে রাক্বী কোনো গাইরে মাহরাম নারীকে স্পর্শ করবেন না; মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে তার মাহরাম উপস্থিত থাকবেন। জিনের রোগীর খুব কাছে বা ঠিক সামনে বসবেন না। আর রুকইয়াহ ডাক্তারি চিকিৎসার পাশাপাশি চলবে, বদলে নয়।
সাধারণ রুকইয়াহর ২০টি আয়াত
এগুলোকে কমন বা স্ট্যান্ডার্ড রুকইয়াহর আয়াত (Standard Ruqyah Verses) বলা হয়। জাদু, জিন, বদনজর ও শারীরিক অসুস্থতা, সব ধরনের রুকইয়াহতেই পড়া যায়; সব ধরনের রুকইয়াহর আয়াতই এর মধ্যে আছে। চাইলে এর সাথে অন্যান্য উপযোগী সূরা বা আয়াতও পড়তে পারেন।
- আল-ফাতিহা ১:১–৭
- আল-বাকারা ২:১–৫
- আল-বাকারা ২:১০২
- আল-বাকারা ২:১৬৩–১৬৪
- আল-বাকারা ২:২৫৫ (আয়াতুল কুরসী)
- আল-বাকারা ২:২৮৫–২৮৬
- আলে ইমরান ৩:১৮–১৯
- আল-আ‘রাফ ৭:৫৪–৫৬
- আল-আ‘রাফ ৭:১১৭–১২২
- ইউনুস ১০:৮১–৮২
- ত্বহা ২০:৬৯
- আল-মু’মিনূন ২৩:১১৫–১১৮
- আস-সাফফাত ৩৭:১–১০
- আল-আহকাফ ৪৬:২৯–৩২
- আর-রহমান ৫৫:৩৩–৩৬
- আল-হাশর ৫৯:২১–২৪
- আল-জিন ৭২:১–৯
- সূরা আল-ইখলাস (১১২)
- সূরা আল-ফালাক (১১৩)
- সূরা আন-নাস (১১৪)
যে অংশগুলো বারবার পড়বেন
বইয়ে আয়াতগুলোর পূর্ণ আরবি পাঠে কিছু অংশ আন্ডারলাইন করে দেখানো হয়েছে, যা বেশি কার্যকর এবং পুনরাবৃত্তি করা উচিত:
- আল-ফাতিহা ১:৫: “ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা‘ঈন”
- আল-বাকারা ২:১০২: “ওয়ামা হুম বিদ্বা-র্রীনা বিহী মিন আহাদিন ইল্লা বিইযনিল্লাহ” এবং “ওয়ালাবি’সা মা শারাও বিহী আনফুসাহুম”
- আল-বাকারা ২:২৫৫: “ওয়ালা ইউহীতূনা…” থেকে “…হিফযুহুমা” পর্যন্ত
- আল-বাকারা ২:২৮৬: “ওয়া‘ফু আন্না…” থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত
- আলে ইমরান ৩:১৯: “ওয়ামান ইয়াকফুর বিআয়াতিল্লাহি ফাইন্নাল্লাহা সারী‘উল হিসাব”
- আল-আ‘রাফ ৭:১১৮: “ওয়া বাতালা মা কানূ ইয়া‘মালূন”, এবং আল-আ‘রাফ ৭:১২০: “সাজিদীন”
- ইউনুস ১০:৮১: “মা জি’তুম বিহিস সিহর, ইন্নাল্লাহা সাইউবতিলুহ”
- ত্বহা ২০:৬৯: “ইন্নামা সানা‘ঊ কাইদু সাহির, ওয়ালা ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতা”
- আল-মু’মিনূন ২৩:১১৭: “ইন্নাহু লা ইউফলিহুল কাফিরূন”
- আস-সাফফাত ৩৭:২ এবং আস-সাফফাত ৩৭:৭–১০-এর অংশবিশেষ
- আর-রহমান ৫৫:৩৫: “ইউরসালু ‘আলাইকুমা শুওয়াযুম মিন নার…”
- আল-হাশর ৫৯:২১, এবং আল-হাশর ৫৯:২৩ ও আল-হাশর ৫৯:২৪-এর অংশ
- আল-জিন ৭২:৮–৯-এর অংশবিশেষ
- আল-ইখলাস ১১২:৪
- আল-ফালাক ১১৩:২ এবং আল-ফালাক ১১৩:৪–৫
- আন-নাস ১১৪:৪ এবং আন-নাস ১১৪:৬
আয়াতে শিফা (আরোগ্যের আয়াত)
যেসব আয়াতে আরোগ্যের কথা এসেছে। শারীরিক অসুস্থতা, জাদুজনিত অসুস্থতা, ইস্তিহাযা, রুকইয়াহর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং আশফিয়া ডিটক্সের প্রস্তুতিতে পড়া হয়।
বইয়ের পরিশিষ্টে ১০:৫৭–৫৮ ও ১৭:৮১–৮২ পুরোটা দেওয়া আছে; অন্য অধ্যায়গুলোতে শুধু ১০:৫৭ ও ১৭:৮২ উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম: প্রতিটি ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা, অথবা রোগীর ওপর, তেল, মধু, কালোজিরা বা ওষুধে ফুঁ দেওয়া। রুকইয়াহর পর মাথাব্যথা-দুর্বলতা হলে সূরা ফাতিহার সাথে এগুলো ৩ বার করে পড়ে পানি পান করতে বলা হয়েছে। বান মারা (অসুস্থ বানানোর) জাদুতে ১৭:৮২ সাতবার পড়ার কথা আছে।
আয়াতুল হারক (জ্বালিয়ে দেওয়ার আয়াত)
আগুন, দহন, জাহান্নামের শাস্তি এবং উল্কাপিণ্ড দিয়ে শয়তানকে তাড়ানোর বর্ণনা আছে এমন আয়াত। জিন-শয়তান ও জাদুর রুকইয়াহয় সাধারণ আয়াতের পর পড়া হয়, প্রয়োজনে পানি ও তেলে ফুঁ দেওয়া হয়। প্রতিটির ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বারবার পড়ুন। বইয়ে এখানে সব আয়াতুল হারক দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে; দীর্ঘ সংস্করণ ruqyahbd.org-এ পাওয়া যায়।
- আল-বাকারা ২:২৬৬
- আল-মায়িদা ৫:৩৭
- আল-আন‘আম ৬:১২৮
- আল-আনফাল ৮:৫০
- ইবরাহীম ১৪:১৫–১৭
- ইবরাহীম ১৪:৪৯–৫০
- মারইয়াম ১৯:৪
- ত্বহা ২০:৯৭
- আল-আম্বিয়া ২১:৩৫
- আল-হাজ্জ ২২:১৯–২২
- আল-আনকাবূত ২৯:২৪
- ফাতির ৩৫:৩৬–৩৭
- আস-সাফফাত ৩৭:৭–১০
- আদ-দুখান ৪৪:৪৩–৫০
- আল-ওয়াকি‘আ ৫৬:৫১–৫৫
- আল-জিন ৭২:৮–৯
- আল-বুরূজ ৮৫:১০
- আল-লাইল ৯২:১৪–১৬
- আল-কারি‘আ ১০১:৮–১১
- আল-হুমাযা ১০৪:৪–৯
বইয়ে আয়াতুল হারক ও আয়াতে শিফার সাথে সূরার নাম দেওয়া নেই, শুধু আরবি পাঠ আছে। এখানকার সূত্রগুলো আরবি পাঠ মিলিয়ে নির্ধারণ করা।
জাদুর (সিহরের) রুকইয়াহর আয়াত
মূল সিহরের আয়াত
মূসা (আ.) ও ফিরআউনের জাদুকরদের ঘটনার আয়াত, যেখানে জাদু বাতিল হওয়ার কথা আছে। জাদুর রোগীর রুকইয়াহ, পানিতে পড়ে পান ও গোসল, তাবিজ বা জাদুর জিনিস নষ্ট করা, আর জাদুর জিনিস রাখা সন্দেহজনক জায়গায় পানি ছিটানো, সবখানে এগুলো লাগে।
সিহরের রুকইয়াহয় বারবার পড়ার আয়াত
বর্ধিত পাঠ (শাইখ বিন বায রহ.-এর বরই পাতার পানির তালিকা)
সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, আল-আ‘রাফ ৭:১০৬–১২২, ইউনুস ১০:৭৯–৮২, ত্বহা ২০:৬৫–৬৯, সূরা কাফিরূন, আর ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে; সাথে আল্লাহুম্মা রব্বান নাস: অসুস্থের জন্য রুকইয়াহ ও জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি আরকীক ৩ বার করে। সাতটি বরই পাতা পিষে পানিতে দিয়ে এগুলো পড়ে ফুঁ দিন, কিছুটা পান করুন, বাকিটা দিয়ে গোসল করুন।
সাধারণ জাদুর পানি
মূল সিহরের আয়াত, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক ও নাস প্রতিটি ৩ বার করে পড়ে বেশি পরিমাণ পানিতে ফুঁ দিন; দিনে ২–৩ বেলা আধা গ্লাস পান করুন এবং গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করুন। পূর্ণ নিয়ম: জাদু: লক্ষণ ও সাধারণ রুকইয়াহ।
বিভিন্ন ধরনের জাদুতে অতিরিক্ত আয়াত
প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল সিহরের আয়াতের সাথে নিচের অংশগুলো যোগ হয়। পূর্ণ প্রেসক্রিপশন ও সময়কাল দেখুন বিভিন্ন ধরনের জাদুর রুকইয়াহ।
- বিয়ে আটকানো বা ভাঙার জাদু: পানিতে মূল সিহরের আয়াত, সূরা ফাতিহা, ফালাক ও নাস ৩ বার করে; সাথে আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ ও তিন কুলের রুকইয়াহ শোনা। জিনের সমস্যা বেশি হলে সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭) ও সূরা আদ-দুখান (৪৪) শোনা।
- সম্পর্ক বিচ্ছেদের জাদু: রুকইয়াহয় আল-বাকারা ২:১০২ বেশি পরিমাণে পড়া; পানিতে ২:১০২, মূল সিহরের আয়াত, ফালাক ও নাস। প্রতিদিন সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪) ও সূরা আল-জিন (৭২) (অথবা ৮ সূরার রুকইয়াহ) পড়া বা শোনা, এবং আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ শোনা।
- বশ বা আসক্ত করার জাদু: অতিরিক্ত আল-বাকারা ২:১৬৫–১৬৬, ইউসুফ ১২:৩০ ও আত-তাগাবুন ৬৪:১৪–১৬; পানিতে আয়াতুল কুরসী, মূল সিহরের আয়াত ও ৬৪:১৪–১৬। শোনা বা তিলাওয়াত: সূরা আত-তাগাবুন কয়েকবার, সূরা ইউসুফ (১২), সূরা আন-নূর (২৪) এবং “রুকইয়াহ যিনা” অডিও।
- পাগল বানানো, মস্তিষ্ক বিকৃতি বা পড়ালেখা নষ্টের জাদু: অতিরিক্ত আল-কলম ৬৮:৫১–৫২; পানি ও অলিভ অয়েলে ফাতিহা, মূল সিহরের আয়াত ও তিন কুল ৩ বার করে (তেল ঘুমের আগে মাথায়)। শোনা: ৮ সূরার রুকইয়াহ। পড়া: সূরা আল-বাকারা (২), সূরা আল-হিজর (১৫), সূরা ফুসসিলাত (৪১), সূরা আল-ফাতহ (৪৮), সূরা ক্বাফ (৫০), সূরা আর-রহমান (৫৫), সূরা আল-মুলক (৬৭), সূরা আল-আ‘লা (৮৭)। রোগী উত্তেজিত থাকলে ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও আয়াতে শিফা।
- অসুস্থ বানানো বা মেরে ফেলার জাদু (বান মারা): পানি, মধু, তেল বা কালোজিরায় ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, মূল সিহরের আয়াত, তিন কুল ও আয়াতে শিফা (১৭:৮২ সাতবার)। প্রতিদিন শোনা: আয়াতুল কুরসীর রুকইয়াহ আধা ঘণ্টা; সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪), সূরা আল-জিন (৭২) একবার; সূরা আল-বাইয়্যিনাহ (৯৮) থেকে সূরা আন-নাস (১১৪) পর্যন্ত তিনবার; সাথে নিজে রুকইয়াহর আয়াত বা সূরা বাকারা তিলাওয়াত।
- ইস্তিহাযা (অনিয়মিত স্রাব) জনিত জাদু: মূল আয়াত ও আয়াতে শিফার সাথে আল-আন‘আম ৬:৬৭-এর প্রথমাংশ (ইস্তিহাযার রুকইয়াহয় লেখার আয়াত: লিকুল্লি নাবাইম মুসতাক্বার (সূরা আন‘আম ৬:৬৭))।
- সহবাসে অক্ষম করার জাদু: ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, মূল সিহরের আয়াত ও আল-ফুরকান ২৫:২৩ ৩ বার করে, তারপর সূরা আশ-শারহ (৯৪), ইখলাস, ফালাক ও নাস ৭ বার করে পানিতে পড়ে ফুঁ। শোনা: তিন কুলের রুকইয়াহ আধা ঘণ্টা, যেকোনো ক্বারীর সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা আত-তারিক (৮৬) অন্তত একবার। (আল-ফুরকান ২৫:২৩ আয়াতটি অন্যান্য জাদু নষ্টেও ব্যবহৃত হয়।)
- শারীরিক যৌন দুর্বলতা (জাদু নয়): ১ কেজি খাঁটি মধু ও ২০০ গ্রাম রয়েল জেলির ওপর সূরা আল-ফাতিহা (১), সূরা আশ-শারহ (৯৪), সূরা আল-ইখলাস (১১২), সূরা আল-ফালাক (১১৩) ও সূরা আন-নাস (১১৪) প্রতিটি ৭ বার। এ ধরনের সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শও নিন।
- গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জাদু: অলিভ অয়েল বা কালোজিরার তেলে এবং মধুতে ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, আল-বাকারা ২:২৮৪–২৮৬, সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকু আলে ইমরান ৩:১৯০–২০০, ফালাক ও নাস ৩ বার করে; সাধারণ রুকইয়াহর সাথে ঐচ্ছিকভাবে আশ-শূরা ৪২:৪৯–৫০। প্রতিদিন: সকালে সূরা আস-সাফফাত (৩৭), রাতে সূরা আল-মুলক (৬৭) ও সূরা আল-মা‘আরিজ (৭০); সূরা মারইয়াম (১৯) একবার; ব্যথা বেশি হলে ৮ সূরার রুকইয়াহ।
জিনের সমস্যার রুকইয়াহর আয়াত
মূল আয়াত
জিন-আক্রান্ত রোগীর কানের কাছে জোরে পড়া হয়, প্রতিটি বাক্য কয়েকবার করে:
- আল-বাকারা ২:১০২, আল-বাকারা ২:২৫৫ (আয়াতুল কুরসী), আস-সাফফাত ৩৭:১–১০, আল-জিন ৭২:১–৯
রুকইয়াহর পানি তৈরিতে সাধারণ রুকইয়াহর আয়াত ও আয়াতুল হারক পড়ে ফুঁ দিয়ে রোগীর মুখে ও হাত-পায়ে ছিটানো এবং কয়েক চুমুক পান করানো হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) এক মৃগী রোগীর কানে আল-মু’মিনূন ২৩:১১৫–১১৮ (সূরার শেষ পর্যন্ত) পড়েছিলেন।
বিশেষ পরিস্থিতিতে
- জিন চিৎকার-চেঁচামেচি বা হুমকি দিলে: আন-নিসা ৪:৭৬
- ওয়াদা নেওয়ার সময় জিন পালাতে চাইলে: আর-রহমান ৫৫:৩৩–৩৬ বারবার।
- জিন যেতে রাজি কিন্তু বের হতে পারছে না: রোগীর কানে আযান, তারপর পুরো সূরা ইয়াসীন (৩৬), তারপর আবার আযান।
- জাদুর সংযোগ আছে কি না যাচাই: কানের কাছে মূল সিহরের আয়াত কয়েকবার।
- জিন সত্যিই গেছে কি না যাচাই: রোগীকে দিয়ে আয়াতুল কুরসী, ফালাক ও নাস পড়ানো।
- আপোষে না গেলে (শাস্তির নিয়তে): আয়াতুল হারক; কবর-জাহান্নামের আযাব ও বিভিন্ন জাতির ওপর গজবের আয়াত; জিন-শয়তান সংক্রান্ত আয়াত; সূরা তাওবা ও আনফালের কিতাল সংক্রান্ত কিছু আয়াত; সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪) ও সূরা আল-জিন (৭২)-এর শুরুর অংশ; আল-হাশর ৫৯:২১–২৪; সূরা আল-আ‘লা (৮৭), সূরা আল-হুমাযা (১০৪), সূরা আল-ফীল (১০৫)। কানের কাছে পড়া এবং পানি ও তেলে ফুঁ দেওয়া।
শোনা ও তিলাওয়াতের প্রেসক্রিপশন
- চিকিৎসার পর প্রতিদিন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা: সূরা আল-বাকারা (২), সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪), জিনের রুকইয়াহ, তিন কুলের রুকইয়াহ ও আয়াতুল হারক। সাথে সকালে সূরা ইয়াসীন (৩৬), রাতে সূরা আল-মুলক (৬৭); ঘুমের সমস্যা থাকলে ঘুমের আগে ৮ সূরার রুকইয়াহ।
- জিন কথা বলে না কিন্তু লক্ষণ মেলে, এক মাস প্রতিদিন অন্তত ৩ ঘণ্টা: সূরা আল-বাকারা (২), ৮ সূরার রুকইয়াহ, সূরা আলে ইমরান (৩), সূরা আত-তাওবা (৯), সূরা আল-কাহফ (১৮), সূরা ফুসসিলাত (৪১), সূরা আর-রহমান (৫৫), সূরা আল-মুলক (৬৭), সূরা আত-তাকভীর (৮১), সূরা আল-ইনফিতার (৮২), সূরা আল-বুরূজ (৮৫), সূরা আত-তারিক (৮৬), সূরা আল-আ‘লা (৮৭) এবং শেষ ১৫টি সূরা (সূরা আল-আদিয়াত (১০০) থেকে সূরা আন-নাস (১১৪)); অতিরিক্ত হিসেবে আল-বাকারা ২:৫০–১০০ বা যেকোনো এক পারা তিলাওয়াত।
- জিনের যৌন হয়রানি বা “লাভার জিন”: ওপরের সূরাগুলোর আগে ও রাতে বারবার “রুকইয়াহ যিনা” (যিনা ও অশ্লীলতা সংক্রান্ত আয়াত; অডিও ও পিডিএফ ruqyahbd.org-এ), সূরা ইউসুফ (১২) ও সূরা আন-নূর (২৪); কিছুদিন বশ করার জাদুর রুকইয়াহ। ঘুমের আগে রুকইয়াহর গোসল সম্ভব না হলে ওযুর পানিতে আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল পড়ে ফুঁ দেওয়া।
বাড়িতে জিন বা জাদুর প্রভাব থাকলে
- জিন দূর করার পানি: বাড়ি থেকে জিন-শয়তান দূর করতে পানিতে পড়ার দোয়া (ইবনুল কাইয়্যিমের উদ্ধৃত), তারপর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়: আউযু বিল্লাহিস সামী‘ইল আলীম … মিন হামযিহী ও বিসমিল্লাহ, তারপর আস-সাফফাত ৩৭:১–১০ এবং আয়াতুল কুরসী; পানিতে ফুঁ দিয়ে পুরো বাড়িতে ছিটিয়ে উচ্চস্বরে আযান।
- সূরা বাকারা: পরপর তিন দিন বাড়িতে পুরো সূরা আল-বাকারা (২); সমাধানের পরও সপ্তাহে বা মাসে কয়েকবার। জিনের রোগী থাকলে কয়েক মাস প্রতি তিন দিনে একবার।
- জাদুর প্রভাব দূর করার পানি (জাদুর সরঞ্জাম নষ্টের পর, পরপর তিন দিন ছিটানো): বাড়ি থেকে জিন-শয়তান দূর করতে পানিতে পড়ার দোয়া (ইবনুল কাইয়্যিমের উদ্ধৃত), আয়াতুল কুরসী, আস-সাফফাত ৩৭:১–১০, মূল সিহরের আয়াত, এবং ফালাক ও নাস কয়েকবার।
বিস্তারিত: জিনের সমস্যা: লক্ষণ ও চিকিৎসা · বাড়িতে জিনের সমস্যা হলে।
বদনজরের রুকইয়াহর আয়াত
- মূল পাঠ: হাদীসের চারটি দোয়ার পর সূরা ফাতিহা, এবং ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে; চাইলে ফালাক ও নাস আরও কয়েকবার।
- বদনজর-নির্দিষ্ট আয়াত (উত্তম স্তর): ইউসুফ ১২:৬৭, আল-কাহফ ১৮:৩৯ এবং সূরা কলমের শেষ দুই আয়াত আল-কলম ৬৮:৫১–৫২।
- ঐচ্ছিক অতিরিক্ত: আন-নিসা ৪:৫৪, আল-মুলক ৬৭:৩–৪। সমস্যা বেশি হলে শেষে সব আবার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান ও গোসল।
- জিনের নজর প্রকট হলে: সাথে সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪) ও সূরা আল-জিন (৭২)-এর রুকইয়াহ শোনা।
- বদনজরের রুকইয়াহর গোসল: এক বালতি পানিতে দুই হাত ডুবিয়ে দরূদ, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, কাফিরূন, ইখলাস, ফালাক, নাস প্রতিটি ৭ বার, শেষে আবার দরূদ; সময় কম হলে ৩ বার করে (সংক্ষেপে দরূদ ১ বার, কাফিরূন বাদ দেওয়া যায়)।
বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের এক জায়গায় বদনজরের আয়াত হিসেবে “সূরা কাহাফ ২৯” ছাপা হয়েছে; বদনজর প্রসঙ্গের আয়াতটি মূলত ১৮:৩৯, যা বইয়ের বদনজর অধ্যায়েও এসেছে। পূর্ণ পদ্ধতি: বদনজর: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।
ওয়াসওয়াসার রুকইয়াহর আয়াত
- পানি ও তেলে: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক, নাস ও আল-মু’মিনূন ২৩:৯৭–৯৮ ৩ বা ৭ বার করে, সাথে কিছু আয়াতুল হারক ও দোয়া। পানি সকাল-বিকাল পান ও গোসলের পানিতে মেশানো, তেল বুকে মালিশ।
- ওয়াসওয়াসা আসার মুহূর্তে: আল-মু’মিনূন ২৩:৯৭–৯৮ (শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়: রব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতীন), ঈমান নিয়ে প্রশ্ন জাগলে আল-হাদীদ ৫৭:৩ (মনে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণা এলে: হুওয়াল আওওয়ালু ওয়াল আখির) ও সূরা ইখলাস, আর শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ ফুসসিলাত ৪১:৩৬।
- সাজদার আয়াতযুক্ত সূরা, প্রতিদিন তিলাওয়াত করে সাজদা আদায়: সূরা আস-সাজদা (৩২), সূরা সোয়াদ (৩৮), সূরা ফুসসিলাত (৪১), সূরা আন-নাজম (৫৩), সূরা আল-ইনশিকাক (৮৪), সূরা আল-আলাক (৯৬)।
- গুনাহ থেকে বাঁচার দলিল: আন-নিসা ৪:৩১, আত-তাগাবুন ৬৪:১৬।
বইয়ের টীকায় মুমিনূনের আয়াতটি “৯৬–৯৭” ছাপা হয়েছে; প্রচলিত গণনায় এটি ২৩:৯৭–৯৮। বিস্তারিত: ওয়াসওয়াসা রোগ: মুক্তির উপায়।
সাধারণ অসুস্থতার রুকইয়াহর আয়াত
- মূল পাঠ: সূরা ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাস ও আয়াতে শিফা। রোগীকে ফুঁ দেওয়া, মাথায় বা আক্রান্ত অঙ্গে হাত রেখে পড়া (রাক্বী গাইরে মাহরাম হলে স্পর্শ নয়), অথবা তেল, পানি, মধু, কালোজিরা বা ওষুধে ফুঁ দেওয়া।
- নবীদের দোয়া: আল-আম্বিয়া ২১:৮৩ (আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া), আল-কাসাস ২৮:২৪ (মূসা (আ.)-এর দোয়া: রিযিক ও কল্যাণের প্রয়োজনে), আল-আম্বিয়া ২১:৮৭ (দোয়া ইউনুস)।
- মানসিক অস্থিরতা: আর-রা‘দ ১৩:২৮; বিষণ্নতায় সূরা ইউসুফ (১২) ও সূরা আর-রহমান (৫৫); অন্যান্য মানসিক সমস্যা ও অনিদ্রায় সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪) ও সূরা আল-জিন (৭২)-এর সম্মিলিত রুকইয়াহ। মানসিক রোগে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাও নিন।
- চোখের সমস্যা: প্রতি নামাযের পর সূরা ফাতিহা ১ বার ও ক্বাফ ৫০:২২-এর শেষাংশ ৩ বার পড়ে চোখে ফুঁ।
- তোতলামি বা জিহ্বার জড়তা: ত্বহা ২০:২৫–২৮ (রব্বিশ রাহলী সাদরী (মূসা আ.-এর দোয়া))।
- হাড়ক্ষয় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা (আয়াতে ইজাম): আল-বাকারা ২:২৫৯, আল-ইসরা ১৭:৪৯, আল-ইসরা ১৭:৯৮, মারইয়াম ১৯:৪, আল-মু’মিনূন ২৩:১৪, আল-মু’মিনূন ২৩:৩৫, আল-মু’মিনূন ২৩:৮২, ইয়াসীন ৩৬:৭৮–৭৯, আস-সাফফাত ৩৭:১৬, আস-সাফফাত ৩৭:৫৩, আল-ওয়াকি‘আ ৫৬:৪৭, আল-কিয়ামাহ ৭৫:৩–৪, আন-নাযি‘আত ৭৯:১১। পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় হাত বোলানো; সব না পারলে অন্তত ৩৬:৭৮–৭৯ ও ৭৫:৩–৪।
বিস্তারিত: সাধারণ অসুস্থতায় রুকইয়াহ।
রুকইয়াহর গোসল ও পানিতে পড়ার পাঠ
- বরই পাতার প্রসিদ্ধ গোসল: সাতটি বরই পাতা বেটে পানিতে মিশিয়ে আয়াতুল কুরসী এবং ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার করে পড়ে ফুঁ; কিছুটা পান করে বাকিটা দিয়ে গোসল, সপ্তাহে ২–৩ দিন। বান মারার জাদুতে এর সাথে মূল সিহরের আয়াতও পড়া হয়।
- ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ (রহ.)-এর পদ্ধতি: সাতটি বরই পাতা পিষে পানিতে দিয়ে আয়াতুল কুরসী, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ; তিন ঢোক পান করে বাকিটা দিয়ে গোসল।
- বাথ সল্টের গোসল: গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ বাথ সল্ট (সম্ভব হলে সাথে সাতটি বরই পাতা) দিয়ে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে ফুঁ; তারপর গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পর গোসল: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে গোসল।
- জাদুর বোতলের পানি: মূল সিহরের আয়াত, ফালাক ও নাস ৩ বার করে; দিনে দুই বেলা পান ও প্রতিদিন গোসলের পানিতে মেশানো।
- তাবিজ বা জাদুর জিনিস নষ্ট করা: মূল সিহরের আয়াত এবং ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়া পানিতে জিনিসটি ডুবিয়ে রাখা, আর সন্দেহজনক জায়গায় তিন দিন পানি ছিটানো।
- বিচ্ছু দংশনে: পানি ও লবণে সূরা আল-কাফিরূন (১০৯), সূরা আল-ফালাক (১১৩) ও সূরা আন-নাস (১১৪) (অন্য বর্ণনায় সূরা আল-ইখলাস (১১২) সহ চার কুল) পড়ে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করা বা ঢালা। বিষাক্ত দংশনে দেরি না করে হাসপাতালেও যান।
উপাদান ও গোসলের পূর্ণ নিয়ম: রুকইয়াহর প্রস্তুতি ও সহায়ক উপাদান।
শোনা ও তিলাওয়াতের জন্য সূরা
- ৮ সূরার রুকইয়াহ: সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪), সূরা আল-জিন (৭২), সূরা আয-যিলযাল (৯৯), সূরা আল-ইখলাস (১১২), সূরা আল-ফালাক (১১৩), সূরা আন-নাস (১১৪)। জিনের রোগী, জিন-সংশ্লিষ্ট জাদু (বিশেষত পাগল বানানো ও বিচ্ছেদের জাদু) এবং ঘুমের সমস্যায় শোনা বা পড়া হয়।
- ঘুমের সমস্যায়: ঘুমের আগে প্রায় এক ঘণ্টা সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪) ও সূরা আল-জিন (৭২) শোনা।
- রুকইয়াহয় উপকারী সাধারণ তিলাওয়াত: সূরা আত-তাগাবুন (৬৪), সূরা ইয়াসীন (৩৬), সূরা আস-সাফফাত (৩৭), সূরা আদ-দুখান (৪৪), সূরা আল-জিন (৭২); আর সূরা আল-বাকারা (২)-এর তিলাওয়াত খুব শক্তিশালী রুকইয়াহ।
- তিন কুল ও চার কুল: তিন কুল হলো ইখলাস, ফালাক ও নাস; এর সাথে সূরা আল-কাফিরূন (১০৯) যোগ করলে চার কুল।
প্রতিদিনের হেফাযতের আয়াত
- ঘুমের আগে: আল-বাকারা ২:২৫৫ (আয়াতুল কুরসী), আল-বাকারা ২:২৮৫–২৮৬, এবং তিন কুল পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বোলানো (৩ বার)।
- সকাল-সন্ধ্যায়: তিন কুল ৩ বার করে।
- বাড়তি হেফাযতে সকাল-সন্ধ্যায়: আল-বাকারা ২:১–৫, আল-বাকারা ২:২৫৫–২৫৬, আল-বাকারা ২:২৮৪–২৮৬।
কোনটা কখন কতবার, দেখুন জাদু ও জিন থেকে হেফাযতের মাসনূন আমল।
আশফিয়া ডিটক্স ও পূর্ণ প্রোগ্রামের পাঠ
- আশফিয়া ডিটক্সের উপকরণ প্রস্তুত: সূরা ফাতিহা ৭ বা ৩ বার, আয়াতুল কুরসী ৭ বা ৩ বার, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে, সম্পূর্ণ সূরা আল-বাকারা (২) (প্রয়োজনে দুই দিনে), শেষে আয়াতে শিফা ও অসুস্থতার দোয়া। দেখুন আল-আশফিয়া: ৭ দিনের রুকইয়াহ ডিটক্স।
- পূর্ণ প্রোগ্রামে সময় কম হলে: প্রতিদিনের পৌনে এক ঘণ্টা তিলাওয়াত পূরণ করতে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, ইখলাস, ফালাক ও নাস বারবার; সপ্তাহে অন্তত একবার পুরো সূরা বাকারা (উত্তম প্রতি তিন দিনে একবার)। দেখুন সার্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রাম।
- উন্নতি থেমে গেলে ন্যূনতম রুকইয়াহ: অল্প হলেও নিয়মিত থাকতে শুধু সূরা ফাতিহা এবং ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান, আর যতটুকু পারা যায় রুকইয়াহ শোনা।
বারবার জাদু করলে: অভিশাপের আয়াত
কেউ যদি রুকইয়াহ ও নিয়মিত হেফাযতের আমলের পরও বারবার জাদু করতে থাকে, তখন বইটি শয়তান ও তার অনুসারী জাদুকরদের বিরুদ্ধে অভিশাপের দোয়া করার অনুমতির কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাযে শয়তান আক্রমণ করতে এলে প্রথমে আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছেন, তারপর তাকে অভিশাপ দিয়েছেন (মুসলিম ৫৪২)। পদ্ধতি হলো, যেসব আয়াতে আল্লাহ বা নবীগণ জালিম-কাফিরদের অভিশাপ দিয়েছেন সেগুলো তিলাওয়াত করে, তাহাজ্জুদ বা নফল নামাযের পর দোয়ায় জাদুকর ও তার সহায়ক শয়তানদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফায়সালা চাওয়া:
- আল-বাকারা ২:৮৯–৯০
- আল-বাকারা ২:১৫৯–১৬২ (বইয়ে “১২১–১২২” ছাপা হয়েছে, যা মুদ্রণপ্রমাদ বলে মনে হয়; বিষয়বস্তু অনুযায়ী এখানে ১৫৯–১৬২)
- আন-নিসা ৪:৪৭
- আল-আ‘রাফ ৭:৩৮
- হূদ ১১:৯৮–১০২
- আর-রা‘দ ১৩:২৫
- আল-কাসাস ২৮:৪০–৪৪
- আল-আহযাব ৩৩:৬৮
- নূহ ৭১:২৫–২৮
- সূরা আল-লাহাব (১১১)
সন্দেহ বা কবিরাজের কথার ভিত্তিতে কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে জাদুকর ধরে নিয়ে তার নামে বদদোয়া করবেন না। ভুল মানুষের ওপর বদদোয়া জুলুম, আর মজলুমের দোয়া কবুল হয়। জাদুকর ও শয়তানদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চান।
অভিশাপ দেওয়া স্পর্শকাতর বিষয়। আগে স্বাভাবিক রুকইয়াহ ও দোয়া করতে হবে; এ পর্যন্ত না গিয়ে পারা গেলে না যাওয়াই উত্তম। নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে জাদুকর বলে সাব্যস্ত করবেন না: স্বপ্ন বা রুকইয়াহর সময় জিনের কথা কোনো প্রমাণ নয়, খবিস জিন মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করতে মিথ্যা বলে।
জাদু ও বদনজরের বাস্তবতার দলিল
এগুলো রুকইয়াহর তালিকা নয়, বরং বইয়ে আকীদা অংশে দলিল হিসেবে আনা আয়াত:
- জাদু বাস্তব, তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ক্ষতি করতে পারে না: আল-বাকারা ২:১০২, আল-আ‘রাফ ৭:১১২, আল-আ‘রাফ ৭:১১৫–১১৭, আল-হিজর ১৫:১৪–১৫, আয-যারিয়াত ৫১:৫২, আল-ফালাক ১১৩:১–৪
- বদনজর সত্য: ইউসুফ ১২:৬৭–৬৮, আল-কাহফ ১৮:৩৯, আল-কলম ৬৮:৫১
রুকইয়াহর আগে-পরে পড়ার ২০টি দোয়া
বইয়ের পরিশিষ্টে রুকইয়াহর আয়াতের আগে বা পরে পড়ার জন্য এই দোয়াগুলো দেওয়া আছে। ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর দোয়া পুরোটা বারবার পুনরাবৃত্তি করার মতো বলে চিহ্নিত।
- সন্তানদের হেফাযতের দোয়া
- ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে বা অস্থির লাগলে
- আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাত
- বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু
- জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি আরকীক
- জিবরাঈল (আ.)-এর রুকইয়াহ: বিসমিল্লাহি ইউবরীক
- আল্লাহুম্মা রব্বান নাস: অসুস্থের জন্য রুকইয়াহ
- শরীরে ব্যথা হলে: “বিসমিল্লাহ” ৩ বার, তারপর দোয়াটি ৭ বার।
- রোগীর সুস্থতার জন্য ৭ বার: ৭ বার।
- হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া (৭ বার)
- শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়: আউযু বিল্লাহিস সামী‘ইল আলীম … মিন হামযিহী
- মসজিদে প্রবেশের সময় শয়তান থেকে আশ্রয়: আউযু বিল্লাহিল আযীম
- শয়তানদের চক্রান্ত থেকে আশ্রয়
- দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াত চাওয়া
- আল্লাহুম্মা আফিনী ফী বাদানী
- শোয়ার সময়ের প্রচলিত দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিওয়াজহিকাল কারীম
- আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী … মা শাআল্লাহু কানা (প্রচলিত সকালের দোয়া)
- জিন ও বদনজর থেকে প্রচলিত দোয়া: আল্লাহুম্মা যাস সুলত্বানিল আযীম
- সামগ্রিক কল্যাণ চাওয়ার প্রচলিত দোয়া: মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা
- দরূদে ইবরাহীম
বইয়ের এই তালিকায় দোয়াগুলোর হাদীস-সূত্র দেওয়া নেই। যেগুলোর আলাদা পাতা আছে, সেখানে সূত্র ও মান দেখে নিন।
সূত্র: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুকইয়াহ (পৃ. ১৫–২৭১-এর বিভিন্ন অধ্যায়; মূল তালিকা পৃ. ২৫৩–২৭১), এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি (ruqyahbd.org)। বিস্তারিত জানতে মূল বইটি পড়ুন।